ভারতে বাবার চিকিৎসা শেষ! বাংলাদেশে ফিরেই ফের জিহাদ ঘোষণা জুলাই জঙ্গি সারজিসের
ঢাকা: সম্প্রতি ভিসা নিয়ে ভারতে এসে বাবার চিকিৎসা করিয়েছিলেন বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মুখ সারজিস আলম (Sarjis Alam)। বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভারতে এসে চিকিৎসা করেছিলেন তিনি। কিন্তু …
ঢাকা: সম্প্রতি ভিসা নিয়ে ভারতে এসে বাবার চিকিৎসা করিয়েছিলেন বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মুখ সারজিস আলম (Sarjis Alam)। বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভারতে এসে চিকিৎসা করেছিলেন তিনি। কিন্তু দেহে ফিরেই ফের ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করলেন এই ইসলামপন্থী নেতা। তিনি একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে বলেন বিজেপি মুসলিম বিরোধী রাজনীতি করছে।
তিনি আরও বলেন যে দেশ শোষণের মানসিকতা নিয়ে বন্ধুত্ব করতে চায় সেই দেশের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এই বক্তৃতার ভিডিও ভাইরাল হলে শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়। অনেকেই মনে করছেন যে ব্যক্তি ভারতের ভিসা নিয়ে বাবার চিকিৎসা করে সে কি করে এই ধরণের দ্বিচারিতা করতে পারে।
আরও দেখুনঃ প্রথমবারের জন্য আইএসএল জয়ের দোরগোড়ায় ইস্টবেঙ্গল, তবু অনিশ্চিত ইমামির ভবিষ্যৎ!
সারজিস আলম বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ (NCP)-র একজন শীর্ষ নেতা এবং উত্তর অঞ্চলের প্রধান সংগঠক। ২০২৪ সালের হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যে গণ অভ্যুথান হয় তার অন্যতম মুখ ছিলেন সারজিস। একাধিকবার ভারত বিরোধী মন্তব্যের কারণে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন এবং সম্প্রতি যার এই দ্বিচারিতায় রাজনৈতিক মহলে উঠেছে নিন্দার ঝড়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের বাবার চিকিৎসার জন্য ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ভিসা সুবিধার উপর নির্ভর করলেন, তিনি কীভাবে ফেরার পর প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী মন্তব্য করতে পারেন? অনেকে এটিকে “দ্বিচারিতা” বলেও কটাক্ষ করেছেন। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক মেরুকরণ ক্রমশ বাড়ছে এবং ভারত প্রসঙ্গ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বাংলায় বিজেপি জেতার পর থেকেই ফের ভারত নিয়ে সরব হয়েছে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা। সেই পরিস্থিতিতে সারজিস আলমের মতো তরুণ নেতাদের বক্তব্য সহজেই জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে “জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অবস্থান” বলে সমর্থন করলেও অন্য অংশের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে এমন উত্তেজক মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন।