অবিলম্বে পঞ্চায়েতে ৬ হাজার কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিলীপের - 24 Ghanta Bangla News
Home

অবিলম্বে পঞ্চায়েতে ৬ হাজার কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিলীপের

Spread the love

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার (Dilip Ghosh)গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। সেই আবহেই রাজ্যের নতুন …

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার (Dilip Ghosh)গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। সেই আবহেই রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘোষণা করলেন পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় দ্রুত সাড়ে ৬ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, গ্রামীণ প্রশাসনের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়নমূলক কাজকে গতিশীল করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে রাজ্যের বহু গ্রামীণ প্রকল্প কার্যত ধীর গতিতে চলছিল। অনেক জায়গায় একজন কর্মীকেই একসঙ্গে তিন থেকে চারটি পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে চাইছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

আরও দেখুনঃ ভারতে বাবার চিকিৎসা শেষ! বাংলাদেশে ফিরেই ফের জিহাদ ঘোষণা জুলাই জঙ্গি সারজিসের

মন্ত্রী দাবি করেছেন, আগের সরকারের আমলেই প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শূন্যপদের একটি তালিকা বা শর্টলিস্ট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই নিয়োগ আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই পঞ্চায়েত স্তরে কর্মী সঙ্কট বাড়ছিল। দিলীপ ঘোষের কথায়, “গ্রামীণ উন্নয়ন থেমে থাকতে পারে না। মানুষের পরিষেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিয়োগ প্রয়োজন। আমরা সেই জট খুলে দ্রুত পদক্ষেপ করব।”

রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, গ্রামীণ সড়ক প্রকল্প, পানীয় জল প্রকল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব অনেকাংশেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পের কাজ সময়মতো সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠছিল। নতুন পঞ্চায়েত মন্ত্রীর মতে, এই বিপুল নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

এই ঘোষণার পর চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এই বড় নিয়োগের সম্ভাবনা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে শুধু নতুন নিয়োগ নয়, বর্তমানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়। বরং অভিজ্ঞ কর্মীদের কাজে লাগিয়েই পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে। ফলে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন বিজেপি সরকার গ্রামীণ প্রশাসনকে অগ্রাধিকার দিতেই এই পদক্ষেপ করছে। কারণ পঞ্চায়েত স্তরই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বড় আকারের নিয়োগ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, তা মানছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরাও।

এখন নজর থাকবে কবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং কীভাবে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে দিলীপ ঘোষের এই ঘোষণার পর স্পষ্ট, গ্রামীণ প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে নতুন সরকার।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *