আদালতে যাওয়া শুধুই নাটক! মমতাকে কটাক্ষ নওশাদের
তপসিয়া ও তিলজলা এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। (Naushad Siddiqui)এবার সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন আইএসএফ …
তপসিয়া ও তিলজলা এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। (Naushad Siddiqui)এবার সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে আদালতে যাওয়া এখন তৃণমূল নেতৃত্বের “দেখনদারি রাজনীতি”-র অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হাইকোর্ট যাত্রা শুধুই প্রহসন।
নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, “আদালতে যাওয়া শুধু শো-অফ। ওদের ৮০ জন বিধায়ক, ৩০ জন সাংসদ রয়েছে। অন্তত ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল।” তাঁর অভিযোগ, তপসিয়া এলাকার যেখানে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং আদালতে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক প্রচার পাওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে ‘হালালা’ মামলায় প্রথম এফআইআর! পুর পরিবারকে কড়া দাওয়াই
আইএসএফ বিধায়কের কথায়, “ওটা ওদের সেফ জোন। সেখানে গেলে প্রচারও পাওয়া যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার জন্য মাঠে নামতে হয়।” নওশাদের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। তার মধ্যেই বিরোধী নেতাদের একাংশ অভিযোগ করছেন, সরকার মানবিক দিক বিবেচনা না করেই বুলডোজার অভিযান চালাচ্ছে।
সম্প্রতি তিলজলা ও তপসিয়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন বেশ কিছু বহুতলকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করে। এরপর কলকাতা পুরসভা এবং কেএমডিএ যৌথভাবে বুলডোজার, ড্রিলিং মেশিন ও আর্থ মুভার নিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একাংশের বাসিন্দা অভিযোগ করেন, যথাযথ পুনর্বাসন বা সময় না দিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই কাজ আইন মেনে ও মানবিকতার সঙ্গে করা উচিত। তিনি আরও বলেন, “আজও যদি কেউ ভাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, তাহলে সেই ভাবনা ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
নওশাদের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের একাংশ পাল্টা দাবি করেছে, আইএসএফ ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাঁদের মতে, আদালতে যাওয়া বা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা কোনও ভুল নয়। বরং প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে নজর ঘোরাতেই সরকার আদালত ও আইনি লড়াইকে সামনে আনছে।