Tutu Bose News : চিমাকে আনা থেকে একার কাঁধে দলকে টানা…কতটা পেশাদার ছিলেন টুটু বসু? | How proffessional was Tutu Bose, the stalwart of Mohun Bagan?
The stalwart of Mohunbagan, Tutu Bose has left all the football fans.Image Credit: Facebook/Arinjoy Bose
কলকাতা : “আমাদের সূর্য মেরুন/নাড়ির যোগ সবুজ ঘাসে/ আমাদের খুঁজলে পাবে/ সোনায় লেখা ইতিহাসে’ , মোহনবাগানের ম্যাচ থাকলে এই গানে মুখর হয়ে ওঠে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (Saltlake Yuvabharati Krirangan) থেকে মোহনবাগান (Mohunbagan) মাঠ। কিন্তু যাঁর জন্য বাগানের ইতিহাস ‘সোনায় লেখা’, তিনি নেই আজ। গতকালই রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি দিয়েছেন পরপারে। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৭৮ বছর বয়সে চলে গেলেন ময়দানের প্রবাদপ্রতিম কর্তা, মোহনবাগানের ‘অসময়ের সঙ্গী’ টুটু বসু (Tutu Bose)। তাঁর মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া ক্রীড়ামহলে।
তিনি ছিলেন মোহনবাগানের একপ্রকার কল্পতরু। আটের দশকের শেষ দিকে মোহনবাগানের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘মোহনবাগান ফোরাম’। সেই গোষ্ঠীরই প্রধান ছিলেন টুটু বসু ও অঞ্জন মিত্র। ১৯৯০ সালে মোহনবাগানের কার্যনিবাহী কমিটিতে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীকালে সহ-সচিব। পরে ধীরেন দে সরে দাঁড়ালে তাঁর জায়গায় সচিব হন টুটু নিজেই।
১৯৯১ সালে প্রথমবার দলের সভাপতি হন টুটু। সেবারেই প্রথম দলে বিদেশী ফুটবলার হিসাবে চিমা ওকোরিকে সই করান টুটু। এমনকি, চিমার সন্তানের টুটুবাবুর কোলে প্রস্বাব করে দেওয়ার গল্প তো সর্বজনবিদিত। পরের বছর বাগানে এলেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। তারপরেই কৃশানু-বিকাশকে দলে আনা। এরপরেই যেন সবুজ-মেরুন নৌকা তরতর করে এগোতে শুরু করে। ১৯৯৫ সালে মোহনবাগানের সভাপতি হন টুটু। তারপরেই শুরু হয় অঞ্জন-টুটু যুগ।
সভাপতি হয়েই ৯৮ সালে ম্যাকডাওয়েল-কে ক্লাবে নিয়ে এলেন তিনি। দলের সঙ্গে জড়িয়ে গেল ম্যাকডাওয়েল। সেই সময় প্রচন্ড ঝামেলা হয় এই ঘটনা নিয়ে। এমনকি মামলা হয়েছিল এই ঘটনা নিয়ে। ২০১২ সালে কলকাতা ডার্বির ম্যাচে সমর্থকদের ছোঁড়া পাথরে আহত হন বাগানের রহিম নবি। প্রতিবাদে দ্বিতীয়ার্ধে দল তুলে নিল করিম বেঞ্চারিফার মোহনবাগান। ফেডারেশন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজীবনের জন্য মোহনবাগানকে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রফুল্ল প্যাটেল। টুটু বসু দিল্লি উড়ে গিয়ে প্রফুল্ল প্যাটেলকে অনুরোধ করেন, যেন বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে হলেও বাগানকে যেন নির্বাসন থেকে বাঁচানো হয়। এর পরিণতি হিসেবে বাগানকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় এবং টুটু বসু নিজের ব্যক্তিগত বন্ড ভাঙিয়ে সেই জরিমানা মিটিয়ে মোহনবাগানকে ফের আই লিগে খেলার সুযোগ করে দেন। এরপরে ম্যাকডাওয়েল সরে যাওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত অর্থে ক্লাবকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন বহুদিন।
গতকালই অসুস্থ টুটু বসুকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক, এআইএফএফ সচিব কল্যাণ চৌবেরা। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতরাতে তাঁর প্রয়াণের পরেই মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী – সবাই শোকবার্তা জানিয়েছেন। তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছেন সমর্থকেরা। তাঁর ছবিতে মাল্যদান করলেন মোহনবাগানের ‘ঘরের ছেলে’ সুব্রত ভট্টাচার্য। কিন্তু টুটু বসুর চলে যাওয়ার ফলে আরও একবার মোহনবাগানের মাথা থেকে সরে গেল সেই বটগাছের ছায়া, যা আজীবন অনেক অসুবিধে, অনেক ঝড়-ঝাপটা থেকে বুক দিয়ে রক্ষা করে গিয়েছেন ক্লাবকে। আজ তাঁর চলে যাওয়ার পর ‘ক্রীড়া’ নামক সমুদ্রে অনেক ঝঞ্ঝার সামনে পড়বে সবুজ-মেরুন নৌকো। সেই নৌকোকে সামলানোর মত লোক নিশ্চয়ই রয়েছে মোহনবাগান ক্লাবে, কিন্তু টুটু বসুর মতো ‘দক্ষ’ নাবিক কি রয়েছে ? থাকলেই যে অবাক হব।