মোহনবাগানের অভিভাবক টুটু বসু প্রয়াত, কোথায় জানাবেন শেষ শ্রদ্ধা - 24 Ghanta Bangla News
Home

মোহনবাগানের অভিভাবক টুটু বসু প্রয়াত, কোথায় জানাবেন শেষ শ্রদ্ধা

Spread the love

টুটু বসুর প্রয়াণে স্তব্ধ ময়দান। বালিগঞ্জ থেকে মোহনবাগান ক্লাব, তারপর কেওড়াতলায় শেষকৃত্য, আবেগে ভাসছে সবুজ-মেরুন শিবির।

কলকাতা: ভারতীয় ক্রীড়াজগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগানের প্রাক্তন কর্তা স্বপনসাধন বসু, যিনি সকলের কাছে টুটু বসু নামেই পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে শুধু ময়দান নয়, গোটা ক্রীড়ামহল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কলকাতার ফুটবল ও ক্লাব সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি।

তাই তাঁর প্রয়াণকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মৃত্যু বলে দেখছেন না কেউই, বরং এক যুগের অবসান বলেই মনে করছেন অনেকেই। মোহনবাগানের সঙ্গে টুটু বসুর সম্পর্ক ছিল আত্মার মতো। ক্লাবের সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা— সব কিছুর সঙ্গেই তিনি নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ক্লাবের উন্নতির জন্য তিনি নিরন্তর কাজ করে গিয়েছেন। সংকটের সময়ে ক্লাবের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তৈরি— সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়দানের অনেকেই তাঁকে শুধুমাত্র কর্তা নয়, অভিভাবক হিসেবেই দেখতেন।

বুধবার তাঁর শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে শহরজুড়ে। সকালে প্রথমে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বালিগঞ্জের বাসভবনে। সেখানে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর ভবানীপুর ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর দেহ। এই ক্লাবের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের বহু স্মৃতি। পাশাপাশি যে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন, সেখানেও নিয়ে যাওয়া হবে তাঁকে। তবে সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত অপেক্ষা করছে মোহনবাগান প্রাঙ্গণে।

সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁর মরদেহ পৌঁছবে সেই ক্লাবে, যাকে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা বলে মনে করতেন। সেখানে শেষবারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবে ক্লাব কর্তারা, প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলাররা এবং অসংখ্য সমর্থক। সবুজ-মেরুন শিবিরে যেন নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। যাঁরা বছরের পর বছর টুটু বসুকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের চোখে আজ শুধুই স্মৃতির ভিড়। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। সেখানেই শেষ হবে তাঁর জীবনের পথচলা। কিন্তু তাঁর অবদান, তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁর লড়াইয়ের স্মৃতি থেকে যাবে চিরকাল।

ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকেও শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, টুটু বসুর মতো মানুষ সহজে পাওয়া যায় না। তিনি শুধু একজন প্রশাসক ছিলেন না, ছিলেন এক আবেগের নাম। আজ কলকাতার ময়দান যেন নিজের একজন মানুষকে হারিয়েছে। টুটু বসুর নাম জড়িয়ে থাকবে মোহনবাগানের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে। সময় এগিয়ে যাবে, নতুন মানুষ আসবে, কিন্তু সবুজ-মেরুনের আবেগে টুটু বসু চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *