সংকটে মোহনবাগানের ‘রাজা’, ভেন্টিলেশনে টুটু বোস!
কলকাতা: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক তথা মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বোস। ময়দানের প্রিয় ‘টুটু বাবু’র শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত …
কলকাতা: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক তথা মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বোস। ময়দানের প্রিয় ‘টুটু বাবু’র শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। (Mohun Bagan former president Tutu Bose critical)
টুটু বোসের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়দান জুড়ে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। খবরের গুরুত্ব বুঝে সোমবার রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বর্ষীয়ান এই প্রশাসকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন নবনিযুক্ত ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং এআইএফএফ (AIFF) সভাপতি কল্যাণ চৌবে।
হুইলচেয়ারেও অটুট ছিল বাগান-প্রেম
বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন টুটু বোস। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না। কিন্তু ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ একটুও কমেনি। গত বছর মোহনবাগান দিবসে যখন তাঁর হাতে ‘মোহনবাগান রত্ন’ তুলে দেওয়া হয়, তখন মঞ্চে বসেই তিনি বলেছিলেন, “মোহনবাগানই আমার জীবন, মরার পরেও যেন সবুজ-মেরুন রঙেই ঢাকা থাকি।” সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রাক্তন ফুটবলারদের উপস্থিতিতে সেই মুহূর্তটি ছিল ঐতিহাসিক।
প্রশাসনের প্রাণপুরুষ
মোহনবাগানকে আধুনিক ফুটবলের সাথে তাল মিলিয়ে চালানো এবং বড় বিনিয়োগকারী আনার পেছনে টুটু বোসের অবদান অনস্বীকার্য। ক্লাব প্রশাসনের শীর্ষে না থাকলেও বাগান সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন শেষ কথা। তাঁর আমলেই ক্লাব রত্ন সম্মান থেকে শুরু করে একাধিক জাতীয় স্তরের ট্রফি এসেছে গঙ্গার পাড়ে।
চিকিৎসকদের একটি বোর্ড গঠন করে তাঁর চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। প্রিয় ‘অভিভাবক’-কে ফিরে পেতে এখন কেবল অলৌকিক কিছুর আশায় দিন গুনছেন অগণিত ফুটবল অনুরাগী।