ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-সীমান্তে বেড়ায় ঘোর আপত্তি বিরোধী দলনেতার
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে (Shovandeb Chattopadhyay)। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা, সীমান্ত এলাকায় …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে (Shovandeb Chattopadhyay)। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তর এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সরব হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নতুন সরকারের একাধিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিজেপির “আসল উদ্দেশ্য” নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
#WATCH | Kolkata: On Implementation of BNS, West Bengal Leader of Opposition, Sobhandeb Chattopadhyay says, “We had reservations with the BNS. It changed the whole law and order of the country. All the opposition parties had protested…”
On approval of the Ayushman Bharat… pic.twitter.com/1OiHimTk7s
— ANI (@ANI) May 11, 2026
প্রথমেই তিনি মন্তব্য করেন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস নিয়ে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই নতুন আইন দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পুরো কাঠামোই বদলে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের বিএনএস নিয়ে আপত্তি ছিল। গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলার কাঠামোই বদলে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত বিরোধী দল এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে বিরোধী শিবিরের আপত্তি আগেই ছিল, তবে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সেই বিতর্ক আবার সামনে চলে এল।
আরও দেখুনঃ বড় প্রশাসনিক বদল! রাজ্যের নতুন মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল
এছাড়াও রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শোভনদেবের দাবি, রাজ্যের আগের স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘স্বাস্থ্য সাথী’ এবং কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত দুই প্রকল্পেই প্রায় সমপরিমাণ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, “এখন তারা অনেক বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই সব প্রকল্পে নানা শর্ত বসাবে। তখনই ওদের আসল উদ্দেশ্য সামনে চলে আসবে।” বিরোধী শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের উপর নতুন প্রশাসনিক জটিলতা চাপানো হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, স্বাস্থ্য সাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক বিতর্ক হয়ে উঠতে পারে। কারণ আগের সরকার স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। অন্যদিকে নতুন সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে আরও কার্যকর বলে তুলে ধরতে চাইছে।
সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে আগে থেকেই বিএসএফের চেকপোস্ট ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল। তিনি বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া না থাকলেও বিএসএফের চেকপোস্ট ছিল। তাহলে কি কোনও নিরাপত্তা ছিল না? স্থানীয় মানুষ জমি দিতে চাইছিলেন না, আমরা তো জোর করে জমি কেড়ে নিতে পারতাম না।”
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জমি ইস্যুতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে নতুন সরকার সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, স্থানীয় মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিতে চাইছে যে তারা বিরোধী আসনে বসেও নতুন সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের উপর কড়া নজর রাখবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বার্থ, জমির অধিকার এবং সামাজিক প্রকল্পের প্রশ্নকে সামনে রেখেই তারা রাজনৈতিক লড়াই চালাবে।