১১ বছর পরেও একই রকম প্রাসঙ্গিক ‘পিকু’ - 24 Ghanta Bangla News
Home

১১ বছর পরেও একই রকম প্রাসঙ্গিক ‘পিকু’

Spread the love

১১ বছর কেটে গিয়েছে। তবু সুজিত সরকারের ‘পিকু’-র নাম শুনলেই আজও অনেকের মনে ভেসে ওঠে এক অদ্ভুত আবেগ। যেন পুরোনো কোনও বিকেল, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় বা দীর্ঘ রাস্তায় ছুটে চলা একটা গাড়ি। ‘পিকু’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না, ছিল এক অনুভূতি— যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। ২০১৫ সালে মুক্তির সময় কেউ ভাবেনি এত সাধারণ গল্পের একটি ছবি এত বছর পরেও মানুষের মনে এ ভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে থেকে যাবে। কিন্তু ‘পিকু’ থেকে গিয়েছে।

কারণ এই ছবির আবেগ ছিল বাস্তব। সেখানে সম্পর্কের চাপ ছিল, বিরক্তি ছিল, আবার নিঃশব্দ ভালোবাসাও ছিল। আজ এই ছবিকে ফিরে দেখার আরেকটি বড় কারণ দীপিকা পাড়ুকোন নিজে। তখন তিনি ছিলেন ব্যস্ত অভিনেত্রী, আর আজ তিনি এক সন্তানের মা। খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় সন্তান আসতে চলেছে। সময়ের সঙ্গে জীবনের অগ্রাধিকার বদলেছে। তাই আজ ‘পিকু’-র সেই যত্ন, দায়িত্ব আর পেরেন্টিংয়ের আবেগ হয়তো দীপিকার কাছে আরও ব্যক্তিগত, আরও বাস্তব। আর এই নস্ট্যালজিয়ার মাঝেই সবথেকে বড় শূন্যতার নাম ইরফান খান।

‘পিকু’ নিয়ে কথা হলেই আজ তাঁর কথা আলাদা করে মনে পড়ে। কোনও বড় সংলাপ নয়, কোনও অতিরিক্ত নাটক নয়— শুধু উপস্থিতির মধ্যেই তিনি দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলতেন। তাই আজও ‘পিকু’ দেখতে বসলে কোথাও একটা মন খারাপও কাজ করে। অমিতাভ বচ্চন, দীপিকা আর ইরফানের সেই অসম্ভব সুন্দর রসায়নই ছবিটিকে আজও এত জীবন্ত করে রেখেছে। তিনজনের অভিনয়ে কোনও কৃত্রিমতা ছিল না। যেন ক্যামেরা কোনও বাস্তব পরিবারের মুহূর্তগুলো চুপচাপ ধরে রেখেছে। সময় বদলেছে, শহর বদলেছে, মানুষের জীবনও আগের চেয়ে অনেক দ্রুত হয়েছে।

কিন্তু ‘পিকু’ আজও মনে করিয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই ফিরে যেতে চাই সেই মানুষগুলোর কাছেই, যাদের সঙ্গে আমাদের সবথেকে বেশি ঝগড়া, সবথেকে বেশি অভিমান, আর সবথেকে বেশি ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে। তাই প্রায় এক দশকের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়েও দিল্লি থেকে কলকাতার এই জার্নি ভোলার নয়।

—আরাত্রিকা দে

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *