সন্তানের উপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালান? এমন শাসনে বাড়তে পারে ভুল বোঝাবুঝি
বাবা-মা শাসন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শাসন করতে গিয়ে টক্সিক হয়ে উঠছেন না তো? সারাক্ষণ সন্তানের চারপাশে থাকেন। তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। ছোটখাটো কোনও ভুল করলেই বকাঝকা শুরু করে দেন। কখনও কখনও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারধরও করে বসেন। সন্তানের জীবনের খুঁটিনাটি জানার জন্য অস্থির হয়ে থাকেন। ঘরে দরজা বন্ধ করে থাকা যাবে না, অযথা মোবাইল-ল্যাপটপে হাত দেওয়া চলবে না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে, বন্ধুদের সঙ্গে বেশিক্ষণ আড্ডা দেওয়া যাবে না—এই ধরনের হাজারো নিয়ম তৈরি করে রেখে দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং শাসনের মনোভাব আপনাকে টক্সিক অভিভাবক করে তোলে। সন্তানের চিন্তা করা স্বাভাবিক। তাকে শাসন করাও অন্যায়ের নয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সন্তানদের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। বিশেষত, সন্তান যখন কৈশোরে পৌঁছে যাবে, তখন তাকে তার মতো করেও চলতে দেওয়া উচিত। আপনার টক্সিক আচরণ সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে দিতে পারে। তাই কোন বিষয়ের খেয়াল রাখবেন, রইল টিপস।
স্বাধীনতা দিন
যে বয়সে যতটা স্বাধীনতা দরকার, সেটুকু দিন। পোশাক পরিধান থেকে খাওয়াদাওয়া, সব বিষয়ে এই স্বাধীনতা দেওয়া দরকার। এই ধরনের স্বাধীনতা সন্তানকে দায়িত্ববান হতেও শেখাবে। তাকে কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও স্বাধীনতা দিন। এতে সন্তানের সিদ্ধান্ত যদি ভুল হয়, তা হলে তার ফল তাকেই ভোগ করতে হবে। এতে সন্তান সচেতন হবে।
তুলনা নয়
অন্যের সন্তান কী করছে, সে কতটা ভালো সেগুলো নিজের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভাঙবে। তার মধ্যে হিংসাও জন্ম নিতে পারে। বরং, নিজের সন্তানের ভালো দিকগুলো নিয়ে সব সময়ে প্রশংসা করুন। পজ়িটিভ কথার মাধ্যমে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
বন্ধুর মতো মিশুন
শাসনের পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বও গড়ে তুলতে হবে। বিশেষত, কৈশোরে পা দেওয়া সন্তানদের বন্ধু হওয়া বেশি জরুরি। তাকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে সন্তান কী চায়, তা শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠলে তার জীবনে কী চলছে, তা সহজেই জানতে পারবেন। এর জন্য নজরদারি চালাতে হবে না।