প্রতিরক্ষা খাতে বড় রদবদল? আজ বৈঠকে বসছেন রাজনাথ সিং
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর …
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের উপর। এই পরিস্থিতিতেই দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আর তার ঠিক পরদিনই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে বাড়ছে জল্পনা। আজই কি কোনও বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
রবিবার একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে একাধিক বার্তা দেন। তিনি বলেন, আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয়ভাবে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে করোনাকালের মতো ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি চালু করার কথাও বলেন। এছাড়াও আপাতত বিদেশ ভ্রমণ এবং ব্যয়বহুল ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে চাইছে কেন্দ্র। কারণ ইরান-আমেরিকা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে জ্বালানি খাতে। ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। বাড়তে পারে পরিবহণ খরচ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং মূল্যস্ফীতির চাপ।
এই আবহেই আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।