জল্পনার অবসান! পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার সুজিত বসু
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। (Sujit Bose)পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হলেন বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। (Sujit Bose)পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হলেন বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে যান তিনি। তারপর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। কয়েক ঘণ্টার জেরার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সদ্য রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। যদিও ইডির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি সামনে আসার পরই সুজিত বসুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ইন্টার কাশী ম্যাচ নিয়ে কী বললেন সার্জিও লোবেরা?
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভোট ঘোষণার পর এই প্রথম সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত বসু। এর আগে ভোট চলাকালীন একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর, গত ১ মে ইডির দপ্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেদিনও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি তদন্ত ঘিরে। সেই মামলায় অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তদন্ত চলাকালীন অয়ন শীলের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সংখ্যক ওএমআর শিট উদ্ধার হয়। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে বিভিন্ন পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছিল।
ক্রমশ সেই তদন্তের পরিধি বাড়তে থাকে এবং একাধিক তৃণমূল নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে তদন্তে। সেই তালিকায় ছিলেন সুজিত বসুও। ইতিমধ্যেই তাঁর অফিস ও বাড়িতে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁর ছেলেকেও। ইডি সূত্রে খবর, আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারি শুধুমাত্র একটি দুর্নীতি মামলার তদন্ত নয়, বরং বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা আগেও বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছেন। ফলে সুজিত বসুর গ্রেফতারি সেই চাপ আরও বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।