মধ্যরাতে আগুনে ভস্মীভূত খেজুরির ৩৭টি দোকান, ঝাড়গ্রামে সাত - 24 Ghanta Bangla News
Home

মধ্যরাতে আগুনে ভস্মীভূত খেজুরির ৩৭টি দোকান, ঝাড়গ্রামে সাত

Spread the love

এই সময়, খেজুরি ও ঝাড়গ্রাম: রাতে দোকান বন্ধ করে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরেছিলেন দোকান মালিকেরা। কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা শোনেন দোকানে আগুন লেগেছে। তড়িঘড়ি দোকানের সামনে এলে দেখা যায় দাউ দাউ করে জ্বলছে সব। শনিবার রাতের আগুনে রুজি-রোজগার হারালেন পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি ও ঝাড়গ্রাম শহরের বেশ কিছু দোকানদার। দমকল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনায় লেগে গিয়েছে রাজনীতির রং। তৃণমূলের অভিযোগ, রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে বিজেপির লোকজন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে খেজুরি-২ ব্লকের নিচকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি মসনদ-ই-ওয়ালা সৈকতে বন দপ্তরের জায়গায় থাকা অস্থায়ী দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এলাকায় ছোট–বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০-৮০টি হোগলা ও পলিথিনের ছাউনি দেওয়া অস্থায়ী দোকান রয়েছে। দোকানগুলির বেশির ভাগই খাবারের দোকান। এ ছাড়া গিফ্ট ও অন্য জিনিসের দোকানও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার দীপক গুড়িয়া বলেন, ‘আমরা রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি আগুন একের পর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণা বাতাসে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের দাপটে কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও ফেটে যায়। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমাদের সর্বস্ব চলে গিয়েছে।’ প্রায় ৩৭টি দোকান পুড়ে গিয়েছে। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা।

খেজুরি ২ ব্লক তৃণমূল নেতা সমুদ্ভব দাস বলেন, ‘এই জায়গায় যাঁদের দোকান, তাঁরা বেশির ভাগ তৃণমূলের সমর্থক। নিচকসবায় তৃণমূল বেশি ভোট পেয়েছে। তাই বদলা নিতে তৃণমূল কর্মী–সমর্থকদের দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির লোকজন।’ খেজুরির নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুব্রত পাইকের বাড়ি এই এলাকায়। তিনি বলেন, ‘শুনেছি শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কোনও ভাবে যুক্ত নয়।’ অতিরিক্ত পূলিশ সুপার (গ্রামীণ) অতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন লাগার করণ জানতে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অন্য দিকে, ঝাড়গ্রামে রাস্তার পাশে ত্রিপল, টিনের ঘেরা দিয়ে অস্থায়ী কয়েকটি দোকান ছিল। শনিবার রাত একটা নাগাদ সেই সব দোকানে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় দোকান–মালিকদের। সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খাবার, গ্যারাজ, খাতা-পেনের দোকান থেকে মাংসের দোকান, সেলুন-সহ নানা ব্যবসা রয়েছে ওই এলাকায়। পুড়ে যাওয়া এক দোকানের মালিক বরুণ দাস বলেন, ‘রাত একটার সময়ে জানতে পারি দোকানে আগুন লেগেছে। এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দমকল আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। চোখের সামনেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। শেষ হয়ে গেলাম।’

সাতটি দোকান আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় দোকানদার থেকে দমকল বিভাগ। এক দোকানদার বলেন, ‘রাত ১০টার মধ্যে সব দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে ভেজা অবস্থায় আগুন কী ভাবে লাগতে পারে? এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে।’ ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন দোকান মালিকেরা। রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। লক্ষ্মীকান্ত বলেন, ‘রাতে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে অথবা শর্ট সার্কিটের কারণেও পুড়ে যেতে পারে। প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশকে তদন্ত করতে বলেছি। দোকানের মালিকেরা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন।’

ঝাড়গ্রাম দমকল বিভাগের অধিকারিক নন্দগোপাল পাত্র বলেন, ‘আমরা যে সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছই তখন দোকানগুলি দাউ দাউ করে জ্বলছে। কী কারণে আগুন লেগেছে, তা জানা যায়নি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *