পালা বদল রাজ্যে, ডিম-ভাত ছেড়ে এ বার মাছ-ভাতের ধুম!
বাবলু সাঁতরা, ঘাটাল
সোমনাথ মাইতি, কাঁথি
মাছে-ভাতে বাঙালি- প্রবাদটি বেশ পুরোনো। তবে সদ্য মিটে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে সেই চেনা প্রবাদটাই হয়ে উঠেছিল প্রচারের অন্যতম বড় ‘ইস্যু’। তৃণমূল প্রচার করেছিল, বিজেপি ঘোরতর আমিষ-বিরোধী। তারা ক্ষমতায় এলে বাঙালির পাত থেকে উধাও হয়ে যাবে মাছ। সে ‘অপবাদ’ ঘোচাতে ভোট-ময়দানে কোমরবেঁধে নেমে পড়ে বিজেপিও। মাছ হাতে নিয়েই প্রচারে বেরিয়ে পড়েন দু’দলের বহু প্রার্থী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ঘোষণা করেন, ‘জয়ের পরে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে।’
ভোট মিটেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মাছ-ভাতের কথা ভোলেনি বিজেপি। গত ৬ মে ঘাটালের সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুরে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে দু’কুইন্টাল মাছ রান্না করে প্রায় তিন হাজার লোকজনকে খাইয়েছেন স্থানীয় বিজেপির নেতা-কর্মীরা।
রবিবার দিকে দিকে বিজয় মিছিল হয়েছে। উল্লাসে মেতেছেন নব-নির্বাচিত বিধায়ক ও দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু ভিন্ন ছবি দেখা গেল দাসপুরের সিংহচক গ্রামে। ওই বিধানসভা কেন্দ্রেও জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তপন দত্ত। এ দিন বিজয় মিছিলের পথে না হেঁটে তাঁরা গ্রামের একটি ফাঁকা জায়গায় দুপুরে মাছ-ভাতের আয়োজন করেন। আশপাশের বহু গ্রামের বাসিন্দা ওই ভূরিভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন। আড়াই কুইন্টাল রুই ও কাতলা মাছ রান্না করে প্রায় তিন হাজার মানুষের ভোজের আয়োজন করা হয়। মাছ-ভাত ছাড়াও পাতে ছিল আলুভাজা, সব্জি, ডাল, চাটনি, মিষ্টি ও পাঁপড়। স্থানীয় বিজেপি নেতা মহিতোষ জানা বলেন, ‘মাছ-ভাতের আয়োজন করে আমরা তৃণমূলের অপপ্রচারের জবাব দিলাম। বাঙালি মাছে-ভাতে ছিল, আছে এবং থাকবেও।’
তৃণমূল জমানায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ‘ডিম-ভাত’। ধর্মতলা হোক বা অন্যত্র- তৃণমূলের সভা শেষে পাতে ডিম-ভাত পড়তই। এ বারের ভোটের ফল ঘোষণার দিনেও কর্মীদের জন্য সেই একই মেনুর আয়োজন করা হয়েছিল। তবে হারের ইঙ্গিত পেয়ে কর্মীরা না খেয়েই ময়দান ছেড়েছিলেন।
ভোটে জিতে বিজেপি ডিম-ভাত ছেড়ে ‘মাছ-ভাত’-এর কথা রাখতে শুরু করেছে। কাঁথির ছেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। সেই আনন্দে বিজেপির পক্ষ থেকে কাঁথি-১ ব্লকের টেঙ্গুনিয়া গ্রামের লোকজনকে পাত পেড়ে মাছ-ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অসীম মিশ্র বলেন, ‘বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বাঙালি নাকি মাছ-ভাত খেতে পাবে না। এমনই মিথ্যে অপবাদ রটিয়েছিল তৃণমূল। সেই প্রতিবাদে ও বিজেপির রাজ্য জয়ের আনন্দে ওই গ্রামের লোকজনকে মাছ-ভাত খাওয়ানো হলো।’