গ্রামোন্নয়নে ‘প্রচুর’ কর্মী নিয়োগের বার্তা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
দায়িত্ব গ্রহণের পর গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মী নিয়োগ ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন দিলীপ ঘোষ।
কলকাতা: বাংলায় নতুন ‘গেরুয়া’ সরকার গঠনের পর বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ গ্রামোন্নয়ন ও পশুসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি গ্রামবাংলার উন্নয়নে জোর দেওয়ার বার্তা দিলেন৷
সোমবার নবান্নে গিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটি একটি বড় বিভাগ। পঞ্চায়েত বিভাগ আমার অধীনে। গ্রামের উন্নয়নের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিটি কল্যাণমূলক প্রকল্প আবাস যোজনা, জি রাম জি সহ সবকিছুই এই বিভাগের অধীনে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, সচিব ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবারও আলোচনা চলবে।
কর্মী সংকট ও অর্থ বরাদ্দ
দিলীপ ঘোষ স্বীকার করেছেন, বিভাগে কর্মী সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, “৬,৫০০ জন কর্মী প্রয়োজন। আমরা এটি অনুসরণ করব। অর্থ ও জনবলের বিষয়ে আলোচনা চলছে।” তিনি জানান, তহবিল বরাদ্দ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে।
গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন জোর
দিলীপ ঘোষের মতে, পঞ্চায়েত বিভাগ গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এই বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গ্রামের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, পানীয় জল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
পশুসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্বও তাঁর হাতে থাকায় গ্রামীণ এলাকায় পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন ও পশু চিকিৎসা সেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই দিলীপ ঘোষ বিভাগীয় সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, “আমরা আগামীকালও আলোচনা করব। অর্থ বরাদ্দ এবং কর্মী নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
দিলীপ ঘোষের এই দায়িত্ব গ্রহণ বিজেপির গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় সক্রিয় রাজনীতি করছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চান।
বিজেপি নেতারা আশা করছেন, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে গ্রামোন্নয়ন বিভাগ নতুন গতি পাবে এবং গ্রামবাসীরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল আরও ভালোভাবে পাবেন।