অভাব নিত্যসঙ্গী, স্বপ্নে ভর দিয়েই ডাক্তার হয়ে গ্রামের পাশে থাকার শপথ নূরের
তবে এর জন্য নূর আলম আর তাঁর স্ত্রী সাহিদার অবদানও কিছু কম নয়। নিজেদের শত সমস্যা, সঙ্কট সত্ত্বেও, তাঁরা মেয়ের পড়াশোনাকে সব সময়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন। তাঁদের গ্রামে নূর আফসার মতো এত ভালো রেজ়াল্ট আগে কেউ কখনও করেনি। প্রতিটি বিষয়ে রীতিমতো ভালো নম্বর পেয়েছে এই মেধাবী ছাত্রী। মাধ্যমিকে ভৌত বিজ্ঞানে ১০০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৯, ভূগোলে ৯৮, ইতিহাসে ৯৮, অঙ্কে ৯৬, ইংরেজিতে ৯৬ এবং বাংলায় পেয়েছে ৯৩। শহুরে পরীক্ষার্থীদের যেখানে বিষয়পিছু গৃহ শিক্ষকদের উপরে নির্ভরশীল থাকতে হয়, নূরের ক্ষেত্রে তার ন্যূনতম সুযোগও ছিল না। তার স্কুলের ইতিহাসেও মাধ্যমিকে এত নম্বর এর আগে কেউ পায়নি। স্কুলের পক্ষ থেকে তার ফল জানিয়ে বাড়িতে ফোন করা হয়। ফোনটি ধরেছিলেন নূরের মা সাহিদা মল্লিক। খবর শোনামাত্র তাঁদের জগৎবল্লভপুর ব্লকের কাজীর দরগা এলাকার বাড়িতে যেন আনন্দের হাট বসে যায়। সাহিদা বলেন, ‘খবরটা শোনার পরে চোখে জল এসে গিয়েছিল। ও বরাবরই পড়াশোনায় খুব মনোযোগী। কেজি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় ক্লাসে প্রথম হতো। মাধ্যমিকেও ভালো করবে, আশা করেছিলাম। কিন্তু এতটা ভালো হবে, ভাবতে পারিনি।’ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রমিতা বসুও বলেন, ‘নূর আফসারের আচার–ব্যবহার অত্যন্ত ভালো। সবথেকে বড় গুণ, ওর রেগুলারিটি। প্রায় কোনও দিনই স্কুল কামাই করতে দেখা যায়নি ওকে। ক্লাসে সবার পড়ানো খুবই মনোযোগের সঙ্গে শুনত। ওর মতো মেয়ে আমাদের স্কুলের গর্ব।’