হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ ছাড়াতে এক পয়সাও নয়! জানাল মোদী সরকার
নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলি ছাড়িয়ে আনতে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষকে এক টাকাও দেবে না ভারত সরকার (Indian ships)। মোদী সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো …
নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলি ছাড়িয়ে আনতে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষকে এক টাকাও দেবে না ভারত সরকার (Indian ships)। মোদী সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ধরনের ‘টোল ট্যাক্স’ বা মুক্তিপণ দেওয়া মানে ভবিষ্যতে আরও বেশি জোরজবরদস্তি ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের পথ খুলে দেওয়া। জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে সরকারের তরফে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কাছে ১৪টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ১১টি জাহাজকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি। বাকি জাহাজগুলি নিয়েও একই নীতি অনুসরণ করা হবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘বীরত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী’ বলে অভিহিত করেছেন বিজেপি নেতারা। তাঁরা বলছেন, “ভারত এখন আর সেই দেশ নয় যে চাপের মুখে মাথা নত করে।
আরও দেখুনঃ ভারতের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশে আসা রহস্যজনক ২৬ পাকিস্তানি
ভারত প্রথম এই নীতিতে আমরা অটল।” সরকারের যুক্তি, যদি এখন টাকা দিয়ে জাহাজ ছাড়ানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশ বা গোষ্ঠী ভারতীয় জাহাজ আটকে রেখে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করবে। এটা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, ভারত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও মেরিটাইম সুরক্ষার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। সরকারের অবস্থান হল এটা কোনো বাণিজ্যিক সমস্যা নয়, এটা জাতীয় সম্মানের প্রশ্ন। তাই কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না।ভারতীয় বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়।
সেখানে জাহাজ আটকে যাওয়ায় দেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা চাপ পড়েছে। তবে সরকার বলছে, বিকল্প রুট ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। শিপিং কোম্পানিগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।বিরোধী দলগুলির মধ্যে কেউ কেউ সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করলেও, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, “জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি, কিন্তু ব্যবসায়ীদের ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।” তবে সামগ্রিকভাবে দেশের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।