সন্তান কৈশোরে পা দিতেই কেন মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে?
বয়ঃসন্ধি এমন একটি সময়, যখন সন্তান ধীরে ধীরে শৈশব পেরিয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে শুরু করে। এই বয়সে চিন্তাভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ, বন্ধুদের গুরুত্ব এবং স্বাধীনতার চাহিদা দ্রুত বদলাতে থাকে। আর ঠিক তখনই অনেক ক্ষেত্রে মা ও সন্তানের মধ্যে মতের অমিল তৈরি হয়। যে সন্তান একসময় সব কথা মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিত, সে হঠাৎ করেই নিজের জগৎ আলাদা করে ফেলতে চায়। এই পরিবর্তন মায়ের কাছে যেমন কষ্টের হতে পারে, তেমনই সন্তানের কাছেও তা বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে।
কেন বাড়ে দূরত্ব?
সবচেয়ে বেশি মতের অমিল দেখা যায় স্বাধীনতা নিয়ে। সন্তান নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়— কী পোশাক পরবে, কার সঙ্গে মিশবে, কোথায় যাবে বা কতক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করবে— এই সব বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তর্ক বাঁধতে পারে। মায়েরা সাধারণত সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছু নিয়ম তৈরি করেন, কিন্তু কিশোর বা কিশোরীর মনে হতে পারে, তাকে বুঝতে চাওয়া হচ্ছে না।
পড়াশোনা নিয়েও মতের অমিল খুব সাধারণ বিষয়। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই, মায়েরা চান সন্তান নির্দিষ্ট লক্ষ্য মেনে চলুক, বেশি সময় পড়াশোনায় দিক, কেরিয়ারে সফল হোক। সেই জন্যই মোবাইল-সোশ্যাল মিডিয়ার বেশি ব্যবহার নিয়েও অনেক সময় তাঁরা একটু খিটখিট করেন বা বকাঝকা দেন। এতেই সন্তানের মনে হতে পারে, তাকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছোটখাটো কথাবার্তা থেকেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
বন্ধু নির্বাচন বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। এই বয়সে বন্ধুরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। মা কোনও বন্ধুকে অপছন্দ করলে বা বেশি প্রশ্ন করলে সন্তান বিরক্ত হতে পারে। আবার মা মনে করতে পারেন, সন্তান ধীরে ধীরে তাঁর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।