চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় অভিষেককে নিশানা অর্জুন সিংয়ের
পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক …
পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং( Arjun Singh) । তাঁর সরাসরি দাবি, চন্দ্রনাথ রথ খুনের নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর তরজা।
অর্জুন সিং এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “যে পরিমাণে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আয় হয়েছে, সরকার যখন পড়বে তখন মাথা তো খারাপ হবেই। এতদিন যাদের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল, তারা বুঝতে পারছে সব হাতছাড়া হতে চলেছে। তাই ভয় থেকেই এসব কাজ করানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলার মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবেই। আইন নিজের পথে চলবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও দিন গ্রেফতার হতে পারেন।”
এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি বিধায়ক। তিনি আরও দাবি করেন, “এই তো সেদিনই চন্দ্রনাথকে খুন করিয়ে দিল। এই খুনের জন্য অভিষেকই দায়ী। হতাশা এবং রাজনৈতিক ভয় থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। কারণ, তিনি সরাসরি রাজ্যের শাসকদলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি রাজনীতি করতেন না, তবুও সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন বলে জানা যায়। বিশেষ করে ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ একাধিক বিধানসভা এলাকায় সংগঠনের কাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মাঠের রাজনীতির বাইরে থেকে সংগঠনের ভিত মজবুত করতেই বেশি ভূমিকা ছিল তাঁর।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলে। তাঁর মা সরাসরি তৃণমূলকেই দায়ী করেছিলেন ছেলের মৃত্যুর জন্য। শোকাহত অবস্থায় তিনি বলেছিলেন, “আমার ছেলে গরম গরম বক্তব্য রেখেছিল। শাসকদলের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। তারপর থেকেই হুমকি আসছিল। ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না— এই ধরনের কথা বলা হয়েছিল। আজ তারই পরিণতি আমার ছেলের মৃত্যু।”
রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ‘৪ তারিখের পর দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না’ এই মন্তব্যটি। কারণ, এর আগে এক রাজনৈতিক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এমন মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল বলে দাবি বিরোধীদের। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।
ঘটনার তদন্ত ঘিরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না। ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা করা যাচ্ছে না। কারণ, রাজনৈতিক চাপের কারণে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। দলের একাংশের বক্তব্য, কোনও প্রমাণ ছাড়াই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম টেনে রাজনৈতিক নাটক করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্ন তুলেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে বিজেপি নেতারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন