হঠাৎই বাতিল শুভেন্দুর আজকের সমস্ত বিধানসভা কর্মসূচি
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল …
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরগরম। বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার বিজেপি সমর্থক ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছেছেন। গেরুয়া পতাকা, ব্যানার, পোস্টার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে ব্রিগেড চত্বর। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই এত বড় আয়োজন।
তবে এই ঐতিহাসিক দিনের মধ্যেই সামনে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। আজ শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভার সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি আজ কোনও সরকারি আইনসভার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বিজেপি শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, শপথ অনুষ্ঠান এবং তার আগে নির্ধারিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণেই বিধানসভার সূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন শুভেন্দু।
জানা গিয়েছে, বুধবার তিনি বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন। ওই দিন নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর প্রথম বিধানসভা উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুধবারের অধিবেশন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর বাংলার ক্ষমতায় এসে প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে তাঁর উপস্থিতি, বক্তব্য এবং আচরণ—সবকিছুর উপরেই নজর থাকবে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের।
অন্যদিকে, শপথ অনুষ্ঠানের আগে শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক বিশেষ সফরের খবরও সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, আজ তিনি কলকাতার কয়েকটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেতে পারেন। তালিকায় রয়েছে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কালীঘাট মন্দির এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি।
প্রথমেই তিনি যেতে পারেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগকে সম্মান জানাতেই শুভেন্দুর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। এরপর তাঁর কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে মায়ের আশীর্বাদ নিতে চাইছেন শুভেন্দু এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
এছাড়াও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনাও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির আদর্শগত ভিত্তির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষত বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।