মেসেজ এলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই দেন? এর নেপথ্যে থাকতে পারে Anxiety। Ei Samay
ফোনে নোটিফিকেশনের শব্দটা শোনা মাত্রই হাত চলে যায় মোবাইলের দিকে। আপনি হয়তো তখন খাচ্ছেন, কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন, কিংবা বহুদিন পর একটু শান্ত মুহূর্ত উপভোগ করছেন। তবু না চাইলেও ফোনটা হাতে তুলে নেন। কারণ, ভিতরে কোথাও যেন একটা অদৃশ্য চাপ কাজ করে। আমরা সাধারণত ভাবি, এটা শুধুই ভদ্রতা। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই করার এই তাড়নার পিছনে আসলে লুকিয়ে থাকে উদ্বেগ বা অ্যাংজ়াইটি।
কেন সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই করার তাড়না হয়?
কোনও মেসেজ আসার পর আমাদের মস্তিষ্ক শুধু তথ্য গ্রহণ করে না, সেটাকে একটি ‘অসম্পূর্ণ সামাজিক পরিস্থিতি’ হিসেবেও ধরে নেয়। আর অসম্পূর্ণ বিষয় মানুষের মন, বিশেষ করে উদ্বিগ্ন মনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় Zeigarnik Effect। অর্থাৎ, কোনও অসম্পূর্ণ কাজ বা পরিস্থিতি আমাদের মাথায় বার বার ঘুরতে থাকে।
একটি মেসেজের উত্তর দেওয়া মানে সেই পরিস্থিতিকে বন্ধ করা। কিন্তু উত্তর না দিলে সেটা মাথার মধ্যে চাপ তৈরি করতে থাকে। যাঁদের সামাজিক উদ্বেগ বা attachment anxiety রয়েছে, তাঁদের কাছে এই অস্বস্তি আরও বেশি তীব্র হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই দ্রুত রিপ্লাই করেন, অন্যজনকে খুশি করার জন্য নয়, বরং নিজের ভিতরের অস্বস্তিটাকে থামানোর জন্য।
ভদ্রতা নাকি আত্মরক্ষার উপায়?
আমাদের মস্তিষ্ক খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এই আচরণকে ভদ্রতা বলে ব্যাখ্যা করে। আমরা ভাবি, ‘আমি শুধু অভদ্র হতে চাই না, তাই দ্রুত রিপ্লাই করি।’ কিন্তু গভীরে গেলে দেখা যায়, আসল ভয়টা অন্য জায়গায়।
উত্তর না পেলে অনেকের মাথায় নানা নেতিবাচক চিন্তা ঘুরতে শুরু করে—
‘সে কি আমার উপর রেগে গেছে?’
‘আমি কি ভুল কিছু বলেছি?’
‘আমি কি অতিরিক্ত বিরক্ত করছি?’
‘মেসেজটা যদি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়?’ ইত্যাদি নানা রকমের ভাবনা।
এই ভয়গুলো তৈরি হওয়ার আগেই দ্রুত রিপ্লাই করে মানুষ যেন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চায়। এটা এক ধরনের মানসিক নিরাপত্তা খোঁজার পদ্ধতিও বলা যেতে পারে।