সমাজমাধ্যমে নামের পাশে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ জুড়লেন শুভেন্দু, ‘প্রাক্তন’ এড়িয়ে বায়ো পাল্টালেন মমতাও
কলকাতা: বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পরিচয় বদলাননি তিনি। এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। তবে অবশেষে শনিবার, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের …
কলকাতা: বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পরিচয় বদলাননি তিনি। এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। তবে অবশেষে শনিবার, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের দিনেই নিজের সমাজমাধ্যমের ‘বায়ো’ বা পরিচিতি বদলালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেখানেও নিজের নামের আগে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি সন্তর্পণে এড়িয়ে গেলেন তিনি। অন্যদিকে, শপথ নেওয়ার পরপরই নিজের এক্স ও ফেসবুক হ্যান্ডেলে নামের পাশে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ জুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।(Mamata Banerjee Social Media Bio)
শনিবার সকাল পর্যন্তও ফেসবুক, এক্স বা ইনস্টাগ্রামে মমতার প্রোফাইলে জ্বলজ্বল করছিল ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়টি। কিন্তু বেলা গড়াতেই তাতে বদল আসে। তবে নতুন পরিচয়ে কোথাও ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ লেখা নেই। বদলে তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁর কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ। সমাজমাধ্যমে তাঁর বর্তমান পরিচিতি হল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (পঞ্চদশ, ষোড়শ এবং সপ্তদশ বিধানসভা)’।
কেন এই শাসনতান্ত্রিক জট?
গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জিতে রাজ্যে পালাবদল ঘটিয়েছে বিজেপি। শাসকদল তৃণমূল নেমে এসেছে ৮০টি আসনে। শুধু তাই নয়, হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন স্বয়ং মমতা। গণতান্ত্রিক প্রথা অনুযায়ী এরপরই তাঁর ইস্তফা দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রথম থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি কেন্দ্রে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে, তাই ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি এও জানান, আগামী দিনে আইনের দ্বারস্থ হবে দল।
ভোটের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব শাসনতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়। অবশেষে সাংবিধানিক বিধি মেনে ৭ মে তাঁর সরকারের মেয়াদ ফুরোয় এবং ওই রাতেই সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল আর.এন রবি। বিধানসভার বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই খাতায়-কলমে ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ হয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও শনিবার সকাল পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে নিজের পুরনো পরিচয়ই ধরে রেখেছিলেন তিনি। শুভেন্দুর শপথের দিন অবশেষে সেই বিতর্কে ইতি টেনে প্রোফাইল আপডেট করলেন তৃণমূল নেত্রী।