মেধায় উজ্জ্বল দুই মেদিনীপুর, জয়জয়কার মেয়েদেরও
এই সময়: মাধ্যমিকের ফলে বরাবর এর উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে পূর্ব মেদিনীপুর। এ বার তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেই উজ্জ্বলতা আরও বাড়িয়েছে পশ্চিম মেদিমীপুর। এই জেলা থেকেও এ বার মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে একই স্কুলের দুই ছাত্রী।
শুক্রবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হতেই খুশির হাওয়া মেদিনীপুরের যমুনাবালি এলাকার সারদা বিদ্যামন্দির-এ। মেধা তালিকায় ৬৮৯ নম্বর পেয়ে নবম স্থান অর্জন করেছে সাত্তিকা চক্রবর্তী এবং ৬৮৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে ঐশি খামরুই। মেদিনীপুর শহরের ধর্মা এলাকার বাসিন্দা সাত্তিকা চক্রবর্তী ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চায়। বাবা দেবাশিস চক্রবর্তী একটি স্থানীয় প্রকাশনা সংস্থার কর্মী। মা ইন্দ্রানী চক্রবর্তী গৃহবধূ।
মেয়ের সাফল্যে খুশি হলেও আর্থিক দুশ্চিন্তায় আটপৌরে ওই পরিবার। বাবা দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা আর্থিকভাবে দুর্বল। উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়েকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করানো ছাড়া উপায় নেই।’ শালবনির চৈতা গ্রামের বাসিন্দা ঐশি খামরুইও ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। বাবা চঞ্চল খামরুই মেদিনীপুর জেলা আদালতের কর্মী এবং মা শিউলি ঘোষ খামরুই কেশপুরের সাহসপুর ঘোষাল হাই স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক।
মেধা তালিকায় তৃতীয় এগরা রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের ছাত্র অঙ্কনকুমার জানা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মেধা তালিকায় চতুর্থ অরিজিৎ বর। এগরার ছত্রী বিবেকানন্দ বিদ্যাভবনের ছাত্র অরিজিৎ ৬৯৪ নম্বর পেয়েছে। মাধ্যমিকে রাজ্যে নবম স্থান দখল করে চমক লাগিয়েছে হলদিয়ার চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের ছাত্র অদৃজ হাজরা। মহিষাদল থানার লক্ষ্যা গ্রামের বাসিন্দা অদ্জ। বাবা অক্ষয় হাজরা ঠিকা শ্রমিক। মা অনুশ্রী জানা হাজরা গৃহবধূ। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, বাজনা, ছবি আঁকা, আবৃত্তি, গল্প লেখার শখ রয়েছে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় অদুজ।
কোলাঘাটের কেটিপিপি হাইস্কুলের দুই ছাত্র কুন্তল পাঁজা এবং সঞ্চয়ন ভৌমিক এ বার মাধ্যমিকে সপ্তম স্থান দখল করেছে। দুজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। কুন্তলের বাড়ি মেচেদার শান্তিপুরে। বাবা লক্ষ্মীকান্ত পাঞ্জা পেশায় ব্যবসায়ী। সঞ্চয়নের বাবা সমরেন্দু বিকাশ ভৌমিক বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসার। পাঁশকুড়া গার্লস হাইস্কুলের সায়নী পিচ্ছলি মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করেছে। সায়নীর প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮। সায়নীর বাড়ি পাঁশকুড়া পুর এলাকার কনকপুরে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতে ভালোবাসে সায়নী। পাঁশকুড়ার পূর্ব শুকুতিয়া গোপালকৃষ্ণ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী দেবাদৃতা কর ৬৮৮ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে।
এ বার মাধ্যমিকে পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও মেধা তালিকায় প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে জেলার ২৩ জন ছাত্রছাত্রী।