বড় হওয়ার জরুরি ধাপগুলো - 24 Ghanta Bangla News
Home

বড় হওয়ার জরুরি ধাপগুলো

Spread the love

একটি শিশু তার জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর সবথেকে বেশি সময় কাটায় বাড়ি আর স্কুলে। আর এই সময়ে বাবা-মায়ের আচরণ, কথা বলা, অভ্যাস ও জীবনযাপন শিশুর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই একজন শিশুর আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীন ও মানসিক ভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পিছনে বাবা-মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জেনে নিন এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্যারেন্টিং টিপস।

সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন

একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস তার ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। আত্মবিশ্বাস থাকলে শিশু সহজে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে, পরীক্ষার ভয় কাটিয়ে উঠতে পারে এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহও বাড়ে। সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করুন, তাকে ইতিবাচক ভাবে ভাবতে শেখান এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কখনও অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না। এমনকী বকাঝকা করার সময়ও শান্ত ভাবে কথা বলুন।

Child Care tips

ভালো কাজের প্রশংসা করুন

শিশুরা প্রশংসা পেলে সেই কাজ আবার করার চেষ্টা করে। তাই সন্তানের ভালো ব্যবহার বা দায়িত্বশীল আচরণকে গুরুত্ব দিন। যেমন— ঘর গুছিয়ে রাখা, সময় মতো হোমওয়ার্ক করা বা কাউকে সাহায্য করা, এ সব ছোট-ছোট ভালো কাজের প্রশংসা করলে তাদের মধ্যে ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয়।

নিয়ম তৈরি করুন এবং তা মেনে চলুন

শিশুরা চারপাশ দেখে শেখে। তাই কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, তা শেখানোর দায়িত্ব বাবা-মায়ের। বাড়িতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করুন এবং তা নিয়মিত ভাবে মেনে চলতে শেখান। যদি শিশু কোনও নিয়ম ভাঙে, তা হলে রাগ না করে শান্ত ভাবে বোঝান। একই নিয়মে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে শিশুর মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস তৈরি হয়।

Child Care tips

সন্তানের জন্য সময় বের করুন

ব্যস্ত জীবনে অনেক সময়ে বাবা-মায়েরা সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন না। এতে শিশুরা নিজেদের একা বা অবহেলিত মনে করতে পারে। তাই যতটা সম্ভব সময় দিন। একসঙ্গে খাওয়া, খেলাধুলো করা, গল্প শোনা বা শুধু দিনের কথা জিজ্ঞেস করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘আজ স্কুলে কী শিখলে?’ বা ‘আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?’ এই ধরনের সাধারণ প্রশ্ন শিশুকে নিজের মনের কথা বলতে সাহায্য করে।

নিজেই ভালো উদাহরণ হয়ে উঠুন

শিশুরা বাবা-মায়ের আচরণ থেকেই অনেক কিছু শেখে। তাই নিজের কাজের মাধ্যমে ভালো অভ্যাস শেখানো সবথেকে কার্যকর। বড়দের সম্মান করা, সময় মেনে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ঘুমানো বা অন্যকে সাহায্য করা, এ সব অভ্যাস শিশু সহজেই অনুসরণ করে।

Child Care tips

যোগাযোগকে আরও গুরুত্ব দিন

সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ খুবই জরুরি। নিয়মিত কথা বললে শিশু নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে পারে। তার সমস্যা, চিন্তা বা ভয়কে গুরুত্ব দিন এবং এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে সে নির্ভয়ে সব কথা বলতে পারে। এতে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।

 সময়ের সঙ্গে নিজের পেরেন্টিং বদলান

সময়ের সঙ্গে শিশু যেমন বড় হয়, তেমনই বদলায় তার ভাবনা ও চাহিদা। তাই একই ভাবে সব বয়সের সন্তানের সঙ্গে আচরণ করা ঠিক নয়। দুই বছরের শিশুর সঙ্গে যেমন ব্যবহার করবেন, ১৮ বছরের কিশোরের ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতি কাজ নাও করতে পারে। তাই সময় অনুযায়ী নিজের প্যারেন্টিং স্টাইলেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তবে ভালোবাসা, সমর্থন ও সঠিক দিশা, এই তিনটিই সন্তানের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চালিকাশক্তি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *