নিউ ইয়র্কে খুলল ‘এপস্টিন ফাইলস’ লাইব্রেরি! ৩৫ লক্ষ গোপন নথি ঘিরে ফের চাঞ্চল্য আমেরিকায় - 24 Ghanta Bangla News
Home

নিউ ইয়র্কে খুলল ‘এপস্টিন ফাইলস’ লাইব্রেরি! ৩৫ লক্ষ গোপন নথি ঘিরে ফের চাঞ্চল্য আমেরিকায়

Spread the love

epstein file library
৩৫ লক্ষ পৃষ্ঠার নথিপত্র।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আমেরিকার ধনকুবের এবং যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে খুলে দেওয়া হলো এক বিশাল লাইব্রেরি। যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে এপস্টিন মামলা সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লক্ষ পৃষ্ঠার নথিপত্র। লাইব্রেরিটি তৈরি করেছে ‘Institute for Primary Facts’ নামে এক সংস্থা।

epstein file library
১৭ হাজার পাউন্ড ওজনের কাগজপত্র

এই লাইব্রেরিতে রয়েছে ৩,৪০০-রও বেশি ভলিউম, প্রায় ১৭ হাজার পাউন্ড ওজনের কাগজপত্র, আদালতের নথি, তদন্ত রিপোর্ট, ইমেল, ফ্লাইট লগ, ছবি এবং সরকারি তদন্তের নথি। দর্শনার্থীরা অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে যেতে পারেন। তবে সব নথি সাধারণ মানুষের জন্য খোলা হয়নি। কারণ বহু ডকুমেন্টে এখনও বেঁচে থাকা ভুক্তভোগীদের নাম রয়েছে, যা আইনগত ভাবে প্রকাশ করা যায় না।

epstein file library
জেফ্রি এপস্টিন

জেফ্রি এপস্টিন (Jeffrey Epstein) ছিলেন এক সময়ের ধনী ফিনান্সিয়ার, যিনি আমেরিকার বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটির সঙ্গে মেলামেশা করতেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবার যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২০১৯ সালে ফের গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। সেই বছরই নিউ ইয়র্কের জেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

epstein file library
প্রতীকী

লাইব্রেরির অন্যতম আলোচিত অংশ হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি টাইমলাইন। সেখানে ১৯৮০-র দশক থেকে শুরু করে তাঁদের বিভিন্ন যোগাযোগ, পার্টি, সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন তিনি কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তবুও প্রকাশিত নথিতে তাঁর নাম বহুবার উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন আমেরিকা সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

epstein file library

২০২৫ সালের শেষ থেকে আমেরিকার বিচার বিভাগ ধাপে ধাপে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা শুরু করে। পরে ‘Epstein Files Transparency Act’ পাশ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ ডকুমেন্ট জনসমক্ষে আসে। তদন্তকারীরা জানান, প্রায় ৩৫ লক্ষ পৃষ্ঠার পাশাপাশি রয়েছে ২,০০০-র বেশি ভিডিয়ো এবং প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এই নথিগুলির মধ্যে রয়েছে সিজ় করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তথ্য, ব্যক্তিগত ইমেল এবং বিভিন্ন আদালতের নথি।

epstein file library

লাইব্রেরির আয়োজকদের দাবি, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীদের প্রতি সমর্থন জানানো এবং সাধারণ মানুষের সামনে ঘটনাগুলির সত্যতা তুলে ধরা। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের প্রভাবের কারণে এপস্টিন-কাণ্ডের বহু তথ্য চাপা পড়ে গিয়েছিল। তাই সমস্ত নথিকে এক জায়গায় এনে জনসাধারণের সামনে রাখার প্রয়োজন ছিল।

epstein file library

এই পাঠাগারের সঠিক ঠিকানা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। নিরাপত্তার কারণে শুধুমাত্র যাঁদের বুকিং নিশ্চিত করা হচ্ছে, তাঁদের ইমেল এবং মেসেজের মাধ্যমে ঠিকানা পাঠানো হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, এত সংবেদনশীল নথি একসঙ্গে রাখা হয়েছে বলে নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

epstein file library

প্রকাশিত নথিগুলিতে উঠে এসেছে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোথাও রয়েছে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, কোথাও ধনী ও ক্ষমতাশালী মহলের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্কের ইঙ্গিত। আবার কিছু ফাইলে রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার জব্দ করা ছবি ও ভিডিয়োর বিবরণ। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখতে তথ্য কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবুও এই নথি প্রকাশের পর আমেরিকার রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

epstein file library

অনেকের মতে, এই লাইব্রেরি শুধুমাত্র অতীতের এক অপরাধীর আর্কাইভ নয়। এটি আমেরিকার ক্ষমতা, প্রভাব এবং বিচারব্যবস্থার জটিল সম্পর্কেরও প্রতীক। কারণ এপস্টিনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সমাজের উচ্চস্তরের বহু পরিচিত নাম। ফলে এই নথিগুলি সামনে আসার পরে প্রশ্ন উঠছে— এত বছর ধরে কী ভাবে তিনি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে গিয়েছিলেন? নিউ ইয়র্কের এই নতুন লাইব্রেরি সেই প্রশ্নগুলোকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *