আমন্ত্রণ পেয়েছেন কি মমতা? শুভেন্দুর শপথ নিয়ে শমীকের মন্তব্যে চাঞ্চল্য
পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামদুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া এই বিজেপি নেতার শপথগ্রহণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি …
পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামদুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া এই বিজেপি নেতার শপথগ্রহণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই বিশাল অনুষ্ঠানকে ঘিরে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা শহরজুড়ে।
সকাল থেকেই ব্রিগেড চত্বরে জমতে শুরু করেছে ভিড়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে বিজেপি সমর্থকরা এসে পৌঁছেছেন। হাতে পতাকা, মাথায় গেরুয়া স্কার্ফ, মুখে স্লোগান সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মিলিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে।
এই গুরুত্বপূর্ণ দিনের আগের দিনই বড় রাজনৈতিক মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটা শুধু আমাদের স্বপ্ন ছিল না, লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মীর স্বপ্ন ছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে এবার শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের সরকার গঠিত হতে চলেছে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি শিবির এই মুহূর্তকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে নয়, আদর্শগত বিজয় হিসেবেও দেখছে।
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেন । আমাদের জীবনে এর থেকে বড় মুহূর্ত খুব কমই আসতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিনের জঙ্গলরাজকে উপড়ে ফেলে দিয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জয়।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং হিংসা, দুর্নীতি ও অস্থিরতার রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যে উন্নয়ন, শান্তি ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি বলেন, “মানুষ এখন স্বচ্ছতা চায়, কাজের রাজনীতি চায়। সেই লক্ষ্যেই নতুন সরকার কাজ শুরু করবে।”
অন্যদিকে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। মঞ্চ সজ্জা, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা বলয়—সব কিছুই এখন শেষ পর্যায়ে। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে গোটা আয়োজনকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি , কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ -সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, এটি শুধুমাত্র একটি রাজ্য সরকারের শপথ নয়, বরং জাতীয় রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ব্রিগেডের এই বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, প্রোটোকল মেনেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও তিনি অনুষ্ঠানে থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এই বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে জল্পনা।