ভুয়ো ভিডিও দেখিয়ে বিভ্রান্তি! পুলিশের নোটিশ পেল সাংসদ সাগরিকা
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা এখনও রয়েছে। (Sagarika Ghose)এমন সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা এখনও রয়েছে। (Sagarika Ghose)এমন সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি একটি পুরোনো ও ভুল ভিডিও শেয়ার করে কলকাতায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক হিংসার বিভ্রান্তিকর দাবি করেছিলেন। কলকাতা পুলিশ এ ঘটনায় তাঁকে টেকডাউন নোটিশ পাঠিয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার পর সাগরিকা ঘোষ তাঁর ওই পোস্টটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে মুছে ফেলেছেন।সম্প্রতি সাগরিকা ঘোষ তাঁর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দাবি করা হয়, কলকাতায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক হিংসা বেড়ে চলেছে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য ভিডিওটি আসলে মহারাষ্ট্রের একটি পুরোনো ঘটনার।
আরও দেখুনঃ ফের দিল্লিতে আক্রমণ করতে মমতাকে জামাতি সমর্থন নাহিদের
কলকাতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এ ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে কলকাতা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোটের পর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং গুজব ছড়ানো আটকাতে তারা সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। সাগরিকা ঘোষের পোস্টটি যেহেতু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল, তাই তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে ভিডিওটির উৎস যাচাই করতে এবং পোস্টটি অবিলম্বে সরিয়ে নিতে বলা হয়। নোটিশ পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাংসদ পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তবে পুলিশের এই কড়া অবস্থান অনেককে চমকে দিয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দলের একাধিক নেতা ব্যক্তিগতভাবে বলছেন, হয়তো ভুলবশত ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি এ ঘটনাকে তুলে ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রচারের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলেছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, পরাজয়ের পর হতাশা থেকে এ ধরনের পোস্ট করা হচ্ছে যাতে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানো যায়।কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “নির্বাচনের পর যেকোনো ধরনের গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছি, কোনো ভিডিও বা খবর দেখলেই যাচাই করে নিন। অফিসিয়াল সূত্র ছাড়া কিছু বিশ্বাস করবেন না।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এমন অসংখ্য পোস্টের তদন্ত চলছে। ভোট-পরবর্তী সংঘর্ষের খবর যাচাই করে সত্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।