‘দুই চোরের বৈঠক’ বলে মমতা-অখিলেশকে কটাক্ষ বিজেপি নেতার
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর বিরোধী রাজনীতিতে নতুন জোটের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল (Mamata Akhilesh)। ঠিক সেই সময়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর বিরোধী রাজনীতিতে নতুন জোটের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল (Mamata Akhilesh)। ঠিক সেই সময়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি একে ‘দুই চোরের বৈঠক’ বলে কটাক্ষ করে বলেছেন, “দুই চোর ও ডাকাত একসঙ্গে মিলেছে।
তারা দেশের জন্য কাজ করে না, সবসময় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।”বিজেপি নেতা সুভাষ সরকারের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদব উভয়েই দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও অপশাসনের প্রতীক। একজন বাংলায়, অন্যজন উত্তরপ্রদেশে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। এখন পরাজয়ের পর তারা একে অপরের কাছে আশ্রয় খুঁজছেন।
আরও দেখুনঃ দলবিরোধী মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলে অস্বস্তি, ৫ নেতাকে শো-কজ়
কিন্তু জনগণ তাদের আর বিশ্বাস করে না।”অখিলেশ যাদবের এই সফরকে অনেকেই বিরোধী ঐক্যের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এটাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্তদের জোট’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সুভাষ সরকার বলেন, “এরা কখনো দেশের স্বার্থ দেখেনি। শুধু নিজেদের ক্ষমতা ও পরিবারের স্বার্থ দেখেছে।
বাংলায় সন্দেশখালি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি, আর উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকার আসার আগের অবস্থা সবই এদের ব্যর্থতার প্রমাণ।”অখিলেশ যাদবও বিজেপির এই আক্রমণকে ‘রাজনৈতিক হীনমন্যতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা স্বাভাবিক।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের খারাপ ফলাফলের পর বিরোধী শিবির নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।
অখিলেশ যাদবের সফর তারই অংশ। কিন্তু বিজেপি এই ঐক্যকে ভাঙতে দুর্নীতির ইস্যুকে সামনে আনছে। গত কয়েক বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার, গরু পাচারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির আমলে উত্তরপ্রদেশেও দুর্নীতি ও অরাজকতার অভিযোগ ছিল।