জামাত সমর্থন-সিমির সাথে যোগ! চন্দ্রনাথ খুনে টিকছে না তৃণমূলের প্রহসন
কলকাতা: গতকাল ৬ মে রাত ১১ টা নাগাদ মধ্যমগ্রামে নৃশংস ভাবে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)। একেবারে ফিল্মি কায়দায় গাড়ি আটকে তাকে গুলি …
কলকাতা: গতকাল ৬ মে রাত ১১ টা নাগাদ মধ্যমগ্রামে নৃশংস ভাবে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)। একেবারে ফিল্মি কায়দায় গাড়ি আটকে তাকে গুলি করে হত্যা করে শার্প শুটাররা। খুনের কায়দা এবং পরিকল্পনা দেখে তদন্তকারী অফিসাররা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকদিন ধরেই এই পরিকল্পনা চলছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে সুপারি কিলার।
এমনকি হত্যাকাণ্ডে বাইক কেনার ধরণ দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের সঙ্গে মাইল যায়। সুতরাং এই হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশি জঙ্গি যোগ ঘিরেও বাড়ছে জল্পনা।বিজেপি নেতারা এবং খোদ শুভেন্দু অধিকারী এই হত্যাকাণ্ডে তৃণমূল যোগের দাবি করেছেন। তবে চন্দ্রনাথ খুনের কিছুক্ষন পরেই শোক প্রকাশ করে সমাজ মাধ্যমে বিবৃতি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সবচেয়ে বড় কথা এই মর্মান্তিক এবং নক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পর দিনই তৃণমূলের তরফ থেকে ন্যারেটিভ ছড়ানো হয় যে এর আগেও শুভেন্দুর ৪ জন আপ্ত সহায়ক সন্দেহজনক ভাবে মারা যান।
আরও দেখুনঃ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ফেরত নিতে বলে বাংলাদেশকে প্যাঁচে ফেলল মোদী সরকার
যেমন ২০১৩ তে মারা যান প্রদীপ ঝা, ২০১৮ তে প্রাক্তন দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তী, ২০২১ এ পুলক লাহিড়ী এবং ২০২৬ এ চন্দ্রনাথ। এই ন্যারেটিভ ছড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দুকেই এই মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। এছাড়াও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনায় শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তাদের মতে পুলিশ রিপোর্ট বলছে ২০১৩ সালে প্রদীপ ঝা মারা গিয়েছিলেন অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে।
২০১৮ তে ফের শুভব্রতর মৃত্যুতে জল ঘোলা হয়েছিল এবং শুভব্রতকে পুলিশ ব্যারাকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনা যখন ঘটে তখন শুভেন্দু তৃণমূলে। শুরু হয় CID তদন্ত এবং তদন্ত করে CID রিপোর্ট পেশ করে যে শুভব্রতর মৃত্যু আত্মহত্যা ছাড়া কিছু নয়। এখানেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন ২০১৮ তে শুভেন্দু ছিলেন তৃণমূলে, যদি ধরেও নেওয়া হয় যে মৃত্যুর সঙ্গে তার যোগ থাকা সত্ত্বেও সেই সময় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি তারা।
তবে ২০২০ তে বিজেপি যোগ দেওয়ার পরেও তদন্তে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোনও তথ্য কেন দিতে পারল না CID। এছাড়াও তারা সরাসরি তৃণমূলকে এই হত্যার জন্য দায়ী করে যুক্তি দিয়েছেন। তারা বলেছেন প্রথম থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের যোগ ছিল। তাদের যুক্তিতে উঠে এসেছে আহমেদ হাসান ইমরানের নাম, যিনি ছিলেন ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া’ র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সালে ভারতের অন্যতম নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন সিমির ও পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রাক্তন সভাপতি আহমেদ হাসান ইমরান-কে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন।
তথ্য বলছে আহমেদ হাসান ইমরানকে যখন রাজ্যসভায় পাঠানো হয়, তখন জেলা গোয়েন্দা শাখা (DIB) এবং ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তরফ থেকে একাধিক সতর্কবার্তা বা ডশিয়ার দেওয়া হয়েছিল। এই রিপোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সক্রিয় বিভিন্ন ভারত-বিরোধী চরমপন্থী গোষ্ঠী এবং জামায়াত-ই-ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত এই যুক্তিটি পরিষ্কার হয়ে যায় গতকালের একটি ঘটনায় এবং বাংলাদেশের এক জামাত নেতার ভিডিও বার্তায়। জামাত নেতা মোঃ নুরুল হুদা তার বিস্ফোরক বার্তায় মমতাকে সমর্থন করে বলেন ইস্তফা না দিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে এবং পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে।
তিনি আরও বলেন ১৭ কোটি মুসলিম তাকে সমর্থন করবে। মমতাকে জামাত নেতার এই সমর্থন এবং অতীতে আহমেদ হাসান ইমরানকে রাজ্যসভায় পাঠানোর ঘটনাকে জুড়ে দিয়ে তারা বলেছেন তৃণমূলের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের স্পষ্ট যোগাযোগের কথা। এছাড়াও তাদের মতে এই হত্যার ঘটনার তদন্তভার দেওয়া উচিত NIA কে যাতে এই হত্যায় জঙ্গি যোগ সামনে আসে।