Retirement Savings Plan: রিটায়ারমেন্টের পরও জমানো যেতে পারে টাকা, রইল কিছু টিপস – Bengali News | Retirement Savings Plan: Smart Tips to Keep Growing Your Money Even After Retirement
শমিতা সাহা
ষাট বছরে কি আর্থিক পরিল্পনার প্রয়োজন আছে? অবশ্যই আছে। ষাট বছর মানে কর্মসংস্থান থেকে অবসরের সময়, জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু। সবার জীবনেই এই সময়টা বেশ উদ্বেগে কাটে। আগামিদিনগুলি কেমন কাটবে, কোথায় থিতু হবেন, সামাজিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত দিনচর্যার পরিবর্তন আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে। আর তার সঙ্গে আরেকটি বিষয়, যা নিয়ে অনেকে প্রকাশ না করলেও মানসিক ভাবে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তা হল অবসরের পরে আপনার আর্থিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে-রোজগার দিয়ে মাস চলবে কিনা, অসুখ-বিসুখে জমানো টাকা যথেষ্ট হবে কিনা ইত্যাদি।
এই কারণে আগে থাকতেই রিটায়ারমেন্টের পরিকল্পনা করা শ্রেয়। তবে অবসরের আগে যদি পরিকল্পনা না করে থাকেন, তাহলে এখন করুন। সাধারণত অবসরের পরে বেশ কিছু টাকা একসঙ্গে হাতে পেয়ে মানুষ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, যেমন বেহিসেবি খরচ করা, সঠিক খোঁজ-খবর না নিয়ে অনেক টাকা একসঙ্গে বিনিয়োগ করা, ১০-১২ বছরের ঊর্ধ্বে চিন্তা না করা, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এবং যাচাই না করে অন্যের কথায় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। এর ফলে দেখা যায় প্রায়শই সারা জীবনের জমানো টাকা কোনও বিনিয়োগে আটকে যায়, প্রয়োজনে উইথড্র করা যায় না। তার উপর যদি হঠাৎ করে কোনও বড় অসুখ-বিসুখ বা এমার্জেন্সি হয়, সেই ধাক্কা সামলাতে আর্থিক অনটন শুরু হয়ে যায়। এই সব কিছু এড়াতে সময় থাকতে সঠিক পরিকল্পনা করুন।
রইল কিছু টিপস:
- সবার প্রথম হিসাবে করুন আপনার মাসিক খরচ ঠিক কত হতে পারে। প্রথম প্রথম তা নির্ভুল না হলেও, প্ল্যান করুন।
- আগামী ২৫ বছরের চিন্তা করুন। ব্যক্তিগতভাবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করুন।
- যেই খরচে এখন মাস চলছে, অবসরের ৫, ১০ ও ১৫ বছর পর তা কিন্তু তা বেড়ে যাবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে, সেটা মাথায় রেখে হিসাব করুন যে পরবর্তীকালে মাসকাবারির খরচ কত দাঁড়াবে।
- এমনভাবে বিনিয়োগ করুন, যাতে বিনিয়োগের সুদের হার মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি হয়।
- বয়সের সঙ্গে অসুখ-বিসুখের খরচ মেটানোর জন্য প্রয়োজন মতো হেলথ ইন্সুরেন্স কভার নিন, একটা ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন।
- প্রবীণ নাগরিক হিসাবে আপনার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধাগুলি ভালো করে জেনে নিন।
- সুদের হার, মেয়াদ, লক ইন, ঝুঁকি-এহেন নানা বিষয় চিন্তা করে সেই অনুযায়ী জেনে বুঝে বিনিয়োগ করুন।
- আপনার তহবিল তিন ভাগ করুন -স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন (০-৩ বছর) এর ক্ষেত্রে অল্প ঝুঁকিসম্মত বিনিয়োগ করুন, যেখান থেকে মাসের খরচ চলে আসবে। মধ্য মেয়াদি (৩-৭ বছর) এর প্রয়োজনের জন্য ব্যালান্সড ফান্ডে বিনিয়োগ করুন এবং দীর্ঘ মেয়াদি (৭-১৫ বছর) বিনিয়োগ করুন সামান্য বেশি ঝুঁকি নিয়ে-যা আপনার ভবিষ্যতের আর্থিক সম্পদ গড়তে সাহায্য করবে।
- অবশ্যই উইল লিখুন। আপনার অনুপস্থিতিতে পারিবারিক অশান্তি, বিভ্রান্তি ও বিভ্রাট এড়াতে পারবেন।
- জনকল্যাণের জন্য কিছু খরচ করুন। সমাজ আপনাকে যা দিয়েছে, সেখানে কিছু ফিরিয়ে দিন-ফিলানথ্রপি করুন।
- সচেতন হন, অনলাইন হুটহাট কারোর কথা শুনে ফাঁদে পা দেবেন না, কারুর সঙ্গে পিন বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না, আবেগপ্রবণ হয়ে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেবেন না। ৬০ বছরে যা সিদ্ধান্ত নেবেন, ৭৫ বছরে নিজেই তার জন্য নিজেকে ধন্যবাদ দেবেন। তাই দেরি না করে শুরু করুন আর্থিক পরিকল্পনা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিন রিটায়ারমেন্টের পরের জীবনের।