‘নথি লোপাট’ করতেই কি টার্গেট করা হয়েছিল শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে?
মধ্যমগ্রাম: বিজেপি সরকারের রাজকীয় শপথগ্রহণের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অন্ধকার নামল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। বুধবার রাতে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত …
মধ্যমগ্রাম: বিজেপি সরকারের রাজকীয় শপথগ্রহণের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অন্ধকার নামল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। বুধবার রাতে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের শুভম গার্ডেনিয়া আবাসনের সামনে তাঁকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এটি ছিল পুরোপুরি ‘টার্গেট কিলিং’। চন্দ্রনাথের গাড়ি যখন আবাসনের কাছে পৌঁছয়, তখন একটি চার চাকা গাড়ি আড়াআড়িভাবে তাঁর রাস্তা আটকে দেয়। এরপরই দু’টি মোটরবাইকে করে আসা আততায়ীরা জানলার কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে একের পর এক গুলি চালায়। প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে খবর। চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করেই ঘটনাস্থল ছাড়ে দুষ্কৃতীরা। গুলিতে আহত হয়েছেন চালক বুদ্ধদেব বেড়াও।
তদন্তে সিট (SIT) ও সিআইডি
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সিআইডি আইজি-র নেতৃত্বে সিআইডি, আইবি ও বেঙ্গল এসটিএফ-এর আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তিন স্থানীয় দুষ্কৃতীকে আটক করা হয়েছে।
কেন এই খুন?
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। চন্দ্রনাথের কাছে তৃণমূল আমলের বালি চুরি-সহ একাধিক বেআইনি কার্যকলাপের গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল বলে অভিযোগ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই কি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
শুভেন্দুর হুঙ্কার
বৃহস্পতিবার বারাসত হাসপাতালে চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন। বিচার হবেই।” তবে পুলিশের ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, “আগে পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হত না, এখন পুলিশ যথাসময়ে ব্যবস্থা নেবে বলেই আমার বিশ্বাস”।