কে এই চন্দ্রনাথ রথ? কেনই বা তাঁকে টার্গেট করল আততায়ীরা?
কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির প্রকাশ্য পাদপ্রদীপে খুব একটা দেখা যেত না তাঁকে। কিন্তু বিজেপির অন্দরে তিনি পরিচিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘অত্যন্ত বিশ্বস্ত’ এবং অন্যতম প্রধান রণকৌশলী …
কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির প্রকাশ্য পাদপ্রদীপে খুব একটা দেখা যেত না তাঁকে। কিন্তু বিজেপির অন্দরে তিনি পরিচিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘অত্যন্ত বিশ্বস্ত’ এবং অন্যতম প্রধান রণকৌশলী হিসেবে। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে সেই চন্দ্রনাথ রথকেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মীর এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথের জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। শৈশবে রামকৃষ্ণ মিশনের ভাবধারায় বড় হওয়া চন্দ্রনাথের মধ্যে একসময় প্রবল আধ্যাত্মিক টান তৈরি হয়েছিল। সন্ন্যাস নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে শেষমেশ যোগ দেন ভারতীয় বায়ুসেনায়। প্রায় ২০ বছর দেশের সেবা করার পর স্বেচ্ছাবসর নেন তিনি। এরপর কিছুদিন কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করলেও, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে আসা।
শুভেন্দুর ‘আস্থাভাজন’ হয়ে ওঠা
চন্দ্রনাথের পরিবার একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর মা হাসি রথ পূর্ব মেদিনীপুরে পঞ্চায়েত স্তরের নেত্রী ছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর পথ অনুসরণ করেই গোটা পরিবার বিজেপিতে যোগ দেয়। তবে ২০১৯ থেকেই শুভেন্দুর কোর টিমের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন চন্দ্রনাথ। মূলত দফতরের সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব থাকলেও, ধীরে ধীরে সাংগঠনিক স্তরে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন তিনি।
শান্ত স্বভাবের অথচ শৃঙ্খলাপরায়ণ, চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দুর অন্যতম ভরসাযোগ্য সেনাপতি। স্পর্শকাতর রাজনৈতিক অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু করে প্রচারের লজিস্টিক সামলানো, সবেতেই তিনি ছিলেন।
ভবানীপুরের সেই লড়াকু মুখ
সম্প্রতি ভবানীপুর উপনির্বাচনের সময় চন্দ্রনাথকে সম্মুখসমরে লড়তে দেখা গিয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে পরিদর্শনে যান, তখন শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতিতে বিজেপির হয়ে নেতৃত্ব দেন চন্দ্রনাথই। স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূলের প্রচার গাড়ির উপস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর সেই উত্তপ্ত বাদানুবাদ সে সময় রাজনৈতিক মহলের নজরে এসেছিল।
বুধবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় নিজের গাড়িতে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। সেই সময় বাইকে আসা একদল আততায়ী তাঁর পথ আটকায় এবং খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
নির্বাচন পরবর্তী এই হিংসার আবহে চন্দ্রনাথের খুন হওয়ার ঘটনাটি বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে বাগযুদ্ধ আরও তীব্র করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি সুপরিকল্পিত কোনো খুনের ঘটনা। তবে এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না কি ব্যক্তিগত কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।