নিচুতলার ‘দাদাগিরি’ ও ‘তোলাবাজি’ই কি ডোবাল তৃণমূলকে? বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সৌগতর
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ হিসেবে এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। যেখানে দলীয় নেতৃত্ব পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলছে, সেখানে সৌগত …
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ হিসেবে এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। যেখানে দলীয় নেতৃত্ব পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলছে, সেখানে সৌগত রায়ের গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর। তিনি স্পষ্ট জানালেন, দলের স্থানীয় নেতাদের ‘দাদাগিরি’, ‘তোলাবাজি’ এবং রাজ্যের ‘হিন্দু মেরুকরণ’ বুঝতে না পারাই ডুবিয়েছে তৃণমূলকে। (Saugata Roy admits reasons behind TMC defeat)
নিউজ ১৮-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সৌগত রায় জানান, এই ফলাফল আসলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া (অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি) এবং তীব্র হিন্দু মেরুকরণের ফসল। তাঁর মতে, দলের নিচুতলার কর্মীদের আচরণে মানুষ বীতশ্রদ্ধ ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, স্থানীয় স্তরে দলের একদল নেতার বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র যে অভিযোগ ছিল, তা দলের ভাবমূর্তিকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এর ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
কমিশন বনাম শান্ত নির্বাচন
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব, সেখানে সৌগত রায়ের পর্যবেক্ষণ অনেকটাই আলাদা। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কিছু জায়গায় অতি-সক্রিয়তা থাকলেও মোটের ওপর ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ এবং সবথেকে বড় কথা, ভোটে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।
হার মানতে নারাজ মমতা
দলের এই শোচনীয় ফলের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ইস্তফা দেবেন না, কারণ তিনি এই ফলাফলকে ‘পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন না। উল্টে ভোট পরবর্তী হিংসার এলাকাগুলি খতিয়ে দেখতে ৫ জন সাংসদ-সহ ১০ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল। তবে সৌগত রায় মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন দক্ষ ‘স্ট্রিট ফাইটার’, যিনি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম।