তৃণমূলে ছাড়! গেরুয়া সরকার আসতেই অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার কাউন্সিলার
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। (TMC councillor)এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক তৃণমূল কাউন্সিলারের গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। …
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। (TMC councillor)এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক তৃণমূল কাউন্সিলারের গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। পূজালি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ আমিরুল ইসলামকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। পুরনো অস্ত্র আইনের মামলায় এই গ্রেফতারি ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি নতুন নয়, বরং প্রায় আট মাস আগের। ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা বিমানবন্দরে ফ্লাইট ধরতে আসেন শেখ আমিরুল ইসলাম। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহজনক কিছু দেখতে পান। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একটি খালি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড গুলি। এই উদ্ধার ঘিরে তখনই চাঞ্চল্য ছড়ায়।
আরও দেখুনঃ ‘হিংসা নয় সংবিধান মেনেই বাংলা ছাড়া করা হবে তৃণমূলকে!’ হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
তবে সেই সময় অভিযুক্ত কাউন্সিলার দাবি করেছিলেন, ওই ম্যাগাজিন ও গুলির জন্য তাঁর কাছে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। তিনি লাইসেন্স দেখানোর জন্য পুলিশের কাছে সময় চান। জনপ্রতিনিধি হওয়ায় পুলিশ তাঁকে সাত দিনের সময়ও দেয় বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনও বৈধ লাইসেন্স জমা দিতে পারেননি। এরপরই অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মামলা দায়ের হওয়ার পর এতদিন কেন গ্রেফতার করা হয়নি? কেন আচমকাই রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরপরই এই গ্রেফতারি? এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
বুধবার ধৃত কাউন্সিলারকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানাবে পুলিশ, যাতে পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কীভাবে ওই গুলি ও ম্যাগাজিন তাঁর কাছে এল এবং তা ব্যবহারের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল।
পূজালি পুরসভা বজবজ বিধানসভা এবং ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ভরাডুবি হলেও বজবজ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অশোককুমার দেব উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকার একজন কাউন্সিলারের গ্রেফতারি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।