এবার সারের জন্য মোদী সরকারের কাছে হাত পাতল ভারতকে প্যাঁচে ফেলা নেপাল
কাঠমান্ডু: নেপালের বালেন শাহ সরকারের এক অপ্রত্যাশিত ইউ-টার্নে দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা আবার সামনে এসেছে (Nepal)। মাত্র দু’দিন আগেও ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে দাবি করে ‘লাল চোখ’ দেখানো নেপাল …
কাঠমান্ডু: নেপালের বালেন শাহ সরকারের এক অপ্রত্যাশিত ইউ-টার্নে দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা আবার সামনে এসেছে (Nepal)। মাত্র দু’দিন আগেও ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে দাবি করে ‘লাল চোখ’ দেখানো নেপাল সরকার এখন ভারতের কাছে সারের জন্য হাত পাতছে। নেপাল সরকার ৮০,০০০ টন রাসায়নিক সার ভারত থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইন্দো-নেপাল সার চুক্তি (MoU) ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তবুও বালেন সরকার চুক্তি নবায়নের জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।সোমবার নেপালের মন্ত্রিসভা কৃষি ইনপুটস কোম্পানিকে ভারত থেকে ৮০,০০০ টন সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৬০,০০০ টন ইউরিয়া এবং ২০,০০০ টন ডি এ পি সার রয়েছে। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধির জেরে নেপাল এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
২০২২ সালের পাঁচ বছরের জি টু জি চুক্তির আওতায় এই কেনাকাটা করা হবে। চুক্তিটি মার্চ ৩১, ২০২৬-এ মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু নবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।নেপালের কৃষকদের জন্য এই সার অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালীন চাষের আগে সারের অভাব দেখা দিলে খাদ্য উৎপাদন বড় ধাক্কা খেতে পারে। নেপালের অর্থনীতিতে ভারতের ওপর নির্ভরতা যে কতটা গভীর, এই ঘটনা আবার তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ “ওরা যা করেছে আপনারা করবেন না”, কর্মীদের শান্ত থাকার পাঠ শুভেন্দুর
দেশের মোট বাণিজ্যের বড় অংশই ভারতের সঙ্গে। বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং সারের ক্ষেত্রে নেপাল প্রায় পুরোপুরি ভারতের ওপর নির্ভরশীল।কিন্তু মাত্র কয়েকদিন আগের ছবিটা ছিল একেবারে উল্টো। বালেন শাহ সরকার লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ এলাকা নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর দাবি তুলে কড়া অবস্থান নিয়েছিল। কৈলাস মানসরোবর যাত্রার রুট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। একদিকে ভারতের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সুর, অন্যদিকে বাস্তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতার চাপ।
সপ্তাহখানেক আগে নেপাল সরকার এমনকি ১০০ টাকার সামগ্রীর ওপরও কাস্টমস ডিউটি বসিয়েছিল, যা পরে জনরোষের মুখে পিছু হটতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা রাম বাহাদুর বলেন, “আমরা চাই শান্তি আর সুসম্পর্ক। রাজনীতির জন্য কৃষকদের ক্ষতি হোক, এটা কেউ চায় না। সার না পেলে ধান চাষ বন্ধ হয়ে যাবে।” কাঠমান্ডুর এক ব্যবসায়ী জানান, “ভারত ছাড়া আমাদের চলবে না।
কাগজে জাতীয়তাবাদ ভালো লাগে, কিন্তু বাজারে যখন জিনিসের দাম বাড়ে আর সরবরাহ বন্ধ হয়, তখন বাস্তবটা সামনে আসে।”ভারতীয় দিক থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে ‘অ্যাকশনস হ্যাভ কনসিকোয়েন্সেস’ হিসেবে। দিল্লিতে কূটনৈতিক মহলে বলা হচ্ছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন দুই পক্ষেরই দায়িত্ব। ভারত সবসময় নেপালের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু একতরফা উস্কানি কোনও পক্ষের জন্যই ভালো নয়।