বিজেপি জিততেই মসজিদবাড়ি রোডের নাম বদলে হল নেতাজিপল্লী
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের রাত একদিকে জয়ের উল্লাস, (Mosjidbari Road)অন্যদিকে পরাজয়ের ক্ষোভ এই দুইয়ের মিশেলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। এই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের নোয়াপাড়ায় …
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের রাত একদিকে জয়ের উল্লাস, (Mosjidbari Road)অন্যদিকে পরাজয়ের ক্ষোভ এই দুইয়ের মিশেলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। এই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের নোয়াপাড়ায় ঘটে যায় এক ঘটনা, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। রাতারাতি বদলে ফেলা হয় ‘মসজিদবাড়ি রোড’-এর নাম। নতুন সাইনবোর্ডে লেখা হয় ‘নেতাজিপল্লি রোড’। পাশাপাশি ‘সিরাজ উদ্যান’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শিবাজি উদ্যান’। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নাম পরিবর্তন কোনও প্রশাসনিক নির্দেশে হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে কারা এই কাজ করল এবং কেন? এলাকার একাংশের বাসিন্দা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এভাবে রাতারাতি নাম বদল করে দেওয়া শুধু আইনবিরুদ্ধই নয়, সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষেও বিপজ্জনক। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি, তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ভারতীয়রা কি ফিফা বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন, সম্প্রচার চুক্তি কি আটকে গেছে?
অন্যদিকে, বিজেপি সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছেন, এই নাম পরিবর্তন “সাধারণ মানুষের ইচ্ছা” থেকেই হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা অনির্বাণ বিশ্বাসের কথায়, বারাসাতের ইতিহাসে ‘সিরাজ’ নামের কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই, তাই সেই নাম বদলে ‘শিবাজি’ রাখা হয়েছে। একইভাবে ‘মসজিদবাড়ি রোড’-এর নাম পরিবর্তন নিয়েও তিনি যুক্তি দেন যে, অল্পসংখ্যক মানুষের ভিত্তিতে কোনও রাস্তার নাম হওয়া উচিত নয়। যদিও তাঁর বক্তব্যেই উঠে এসেছে এই পরিবর্তন যদি হয়ে থাকে, তা অবশ্যই সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই হওয়া উচিত।
আরও এক বিজেপি সমর্থকের দাবি, গত ১৫ বছরে মানুষ অনেক কিছু করতে পারেনি, কিন্তু এখন তারা নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারছে। তাঁদের মতে, ছোট ছোট পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বড় সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। তবে এই বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে এভাবে আইন না মেনে নাম পরিবর্তন কি আদৌ গণতান্ত্রিক?
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ছবি স্পষ্ট। ৪ মে-র ভোটগণনায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ১৫ বছরের শাসনের পর বড় ধাক্কা খেয়েছে। যদিও তিনি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু দল হিসেবে তৃণমূলের ফল অত্যন্ত হতাশাজনক।
ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর সামনে এসেছে। জামুড়িয়া, বারাবনি, শিলিগুড়ি একাধিক জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার টালিগঞ্জ, কাঁসারিপাড়া, বারুইপুর, কামারহাটি, বরানগর, হাওড়া ও বহরমপুরে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। আসানসোলে গণনাকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ব্যারাকপুরেও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, তাদের বহু পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি দাবি করেছেন, ভাঙচুরের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই, বরং এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, তখন বিজেপি কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছিল।