Prosenjit Chatterjee: 'আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাবেন না', বিজেপি জেতার পর কেন এমন বললেন প্রসেনজিৎ? - Bengali News | Prosenjit Chatterjee post on Political Neutrality - 24 Ghanta Bangla News
Home

Prosenjit Chatterjee: ‘আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাবেন না’, বিজেপি জেতার পর কেন এমন বললেন প্রসেনজিৎ? – Bengali News | Prosenjit Chatterjee post on Political Neutrality

Spread the love

সোমবার ভোটের রেজাল্ট আউট হওয়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় টলিউড সেলেবদের অবস্থান নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা তুঙ্গে। এরই মাঝে বেশ কয়েকজন টলি সেলেবরাও নিজেদের মতো করে ভোটের ফলাফল নিয়ে নানাবিধ পোস্ট করেছেন। ঠিক এই আবহেই মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ সোশাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্ট  টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। আর সেই পোস্টে, প্রসেনজিৎ স্পষ্ট জানালেন, তাঁর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগসূত্র নেই।

ঠিক কী লিখেছেন টলিউডের বুম্বাদা?

প্রসেনজিৎ লিখলেন, ”আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।”

এখানেই শেষ করেননি প্রসেনজিৎ। তাঁর এই পোস্টে তিনি আরও লিখলেন, ”আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেইটুকুই পালন করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগসূত্র নেই।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার টিভি নাইন বাংলাকে শিবপুর বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়ে ছিলেন, রেজাল্ট বের হওয়ার পর সোমবার রাতেই তাঁকে ফোন করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল বলেন, ”২০২১ থেকে বড় করে যখন আমি, এই যে এক অদ্ভুত তালবানি কায়দায়, আইন মানি না, আমরা যা বলব, তাই হবে, সেটাই তৃণমূলের আইন এবং সংবিধান, যা অন্যায় হলেও মেনে চলতে হবে, যা কাজের জায়গায় তিনি শিল্পী হোক বা টেকনিশিয়ন হোন বা পরিচালক যে কেউ-ই হোক, তাঁদেরকে দূর করে দেওয়া হবে, তাঁদেরকে একঘোরে করে দেওয়া হবে, এই বিষয়টা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম বলে, আমার বিরুদ্ধে টেকনিশিয়ানদের কালো ব্যাচ পরে মিছিল করিয়ে ছিল, বয়কট রুদ্রনীল। সেদিন টলিউডের অনেক পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, শিল্পী বন্ধুরা, চাইলেও আমার পাশে দাঁড়াতে পারেননি। যদি সেদিন দাঁড়াতেন, তাহলে প্রথাগতভাবে তৃণমূলের পছন্দ হচ্ছে না বলে, যোগ্য মুহূর্তের মধ্যে অযোগ্য হয়ে যাবে। তাঁর কাজ চলে যাবে, পেটের ভাত কেড়ে নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াটা বাড়াতে সাহস পেয়েছিল তৃণমূলের দাদা বিশ্বাসরা। ফলত এই ধারাবাহিকতা বেড়েছে। লাগামহীন দুনীর্তি চলেছে টলিউডে। তৃণমূলের যা যা অন্যায় তার পক্ষে তোমায় থাকতে হবে কিংবা তাঁদের মিছিলে হাঁটতে হবে। কিংবা তোমায় মুখ বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গে সর্বক্ষেত্রে যে অন্যায় হচ্ছে, টলিউডে তোমায় সব মেনে নিয়ে থাকতে হবে, নাহলে তুমি বিভিন্ন কমেটিতে, বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে, ফিল্ম কত বেশি করে রোজগার করবে, সেই সব। জায়গায় তোমায় ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এই পদ্ধতির অবসান হল, এটা স্পষ্ট করে বলতে পারি।”

এই সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল আরও জানান, সোমরাতেই তাঁকে ফোন করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ফোন করেছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো টলিউডের শিল্পীরা। রুদ্রর কথায়, ”টলিউডের এই একই বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, আমরা বসব। এটা নিয়ে আলোচনা হবে। এই দীর্ঘ যন্ত্রণা আমার মতো বহু মানুষকে সহ্য করতে হয়েছে।” তবে প্রসেনজিৎ তাঁর এই পোস্টে রুদ্রনীলের নাম উচ্চারণ না করলেও,  তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে জল্পনার অবকাশ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *