স্বচ্ছ কোচ নিয়োগে সিএবি, দৌড়ে সাহা-মনোজসহ বহু তারকা
প্রথমবার প্রকাশ্যে কোচ নিয়োগে সিএবি, প্রায় ৮০ আবেদন। ঋদ্ধিমান সাহা, মনোজ তিওয়ারিসহ দেশি-বিদেশি প্রার্থীদের দৌড়ে বাড়ছে উত্তেজনা।
বাংলা ক্রিকেটে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা সিএবি। প্রথমবারের মতো সংস্থাটি কোচ নিয়োগের জন্য প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আবেদনপত্র আহ্বান করেছে। এতদিন পর্যন্ত এই ধরনের পদে নিয়োগ সাধারণত অভ্যন্তরীণ আলোচনা বা সুপারিশের ভিত্তিতে হতো, কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রথা ভেঙে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে সিএবি। ১ মে ছিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন, আর তার মধ্যেই প্রায় আশিজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
শুধু সিনিয়র বাংলা দল নয়, অনূর্ধ্ব তেইশ, অনূর্ধ্ব উনিশ, অনূর্ধ্ব ষোল এবং মহিলা দলের কোচিং স্টাফ, ফিজিও ও প্রশিক্ষকের পদেও আবেদন চাওয়া হয়েছিল। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই চমক তৈরি হয়েছে ক্রিকেট মহলে। বিশেষ করে শোনা যাচ্ছে, আবেদনকারীদের তালিকায় কিছু বিদেশি কোচের নামও রয়েছে, যা বাংলা ক্রিকেটে একেবারেই নতুন ঘটনা।
যদিও সিএবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম প্রকাশ করেনি, তবে সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী উপমহাদেশের বাইরের কয়েকজন কোচ আবেদন করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার কোচদের নাম থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে “ভিশন ২০২০” প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক মানের কোচদের আনা হয়েছিল, তবে তা ছিল স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ শিবিরের জন্য। এবার কিন্তু পূর্ণসময়ের কোচ হিসেবে বিদেশি প্রার্থীদের আবেদন করাই বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বহু পরিচিত নামও এই দৌড়ে রয়েছেন। বর্তমান কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লও পুনরায় এই পদের জন্য আবেদন করেছেন। গত চার বছর ধরে তিনি বাংলা দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকেই এখনও পর্যন্ত অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ঋদ্ধিমান সাহা ও মনোজ তিওয়ারির মতো তারকারাও কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও বোর্ডের অধীনে কাজ করা অভিজ্ঞ কোচ রাজীব দত্তও আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন। এই বিপুল আবেদন থেকে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করতে সিএবি একটি তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে রয়েছেন অরুণ লাল, দেবাঙ্গ গান্ধী এবং কল্যাণ চৌধুরী। তাঁরা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা ও ভাবনা বিচার করবেন। ৮ ও ৯ মে এই সাক্ষাৎকার পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা সম্ভবত অনলাইনে হবে। প্রার্থীরা কীভাবে বাংলা ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, সেই নীলনকশা শুনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, কোচ নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সিএবির এই উদ্যোগ বাংলা ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।