দুর্নীতির মূল উপরে ফেলতে ১৮৫ আসনে এগিয়ে বাংলায় গেরুয়া ঝড়
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় এক অভাবনীয় ছবি সামনে এসেছে। (BJP leading)বিজেপি ইতিমধ্যেই ১৮৫ আসনে এগিয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণের মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নন্দীগ্রাম হয়ে …
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় এক অভাবনীয় ছবি সামনে এসেছে। (BJP leading)বিজেপি ইতিমধ্যেই ১৮৫ আসনে এগিয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণের মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নন্দীগ্রাম হয়ে কলকাতার ভবানীপুর চারিদিকে গেরুয়া ঝান্ডার ঢেউ। যে রাজ্যে একদশক ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছিল, সেখানে এই বিপুল লিড অনেকের কাছেই একটা বড় পরিবর্তনের সংকেত।
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উল্লাসের বন্যা বইছে। রাস্তায় রাস্তায় ছোট ছোট জমায়েত, শাঁখের আওয়াজ, উচ্ছ্বাস। এক বিজেপি সমর্থক নন্দীগ্রামের এক চায়ের দোকানে বসে বললেন, “দাদা, এটা শুধু ভোট নয়, মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। চাকরি চুরি, আরজি কর কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি সবকিছুর হিসেব এবার মানুষ নিচ্ছে।” চরম অসন্তোষ যে প্রকাশ্যে চলে এসেছে, সেটা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।
আরও দেখুনঃদুর্নীতির মূল উপরে ফেলতে ১৮৫ আসনে এগিয়ে বাংলায় গেরুয়া ঝড়
দীর্ঘদিন ধরে যে দুর্নীতির অভিযোগ জমে উঠেছিল, তার প্রভাব এবার নির্বাচনী ফলাফলে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে বিজেপি নেতারা দাবি করছেন।উত্তরবঙ্গে বিজেপির অবস্থান বিশেষভাবে শক্তিশালী। চা-বাগানের শ্রমিক, আদিবাসী এলাকা, সীমান্তবর্তী অঞ্চল সব জায়গায় গেরুয়া হাওয়া। স্থানীয়রা বলছেন, অনুপ্রবেশ, অর্থনৈতিক সংকট আর সরকারি স্কিমের টাকা লুটের অভিযোগ মানুষকে অনেক দূর ঠেলে দিয়েছে।
এক কোচবিহারের যুবক বললেন, “আমার বন্ধুরা SSC চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল, কিন্তু শেষে দেখল টাকা দিয়ে চাকরি কিনতে হয়। এই ক্ষোভ তো আর লুকিয়ে রাখা যায় না।” দক্ষিণবঙ্গেও ছবিটা একইরকম। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী ৭০০০-র বেশি ভোটে এগিয়ে, ভবানীপুরে দু’হাজারেরও বেশি লিড, ঝাড়গ্রামে প্রায় হাজার ভোটের লিড একের পর এক কেন্দ্রে বিজেপির এগিয়ে যাওয়া তৃণমূল শিবিরে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
বিজেপি সমর্থকরা বলছেন, এই ফলাফল তৃণমূলের দুর্নীতি, স্বজনপোষণ আর অপশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের রায়। চাকরি কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সন্দেশখালির ঘটনা, গরু পাচার, কয়লা চোরাচালান সবকিছুর প্রভাব পড়েছে। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে চাষি-শ্রমিক সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অসন্তোষ জমেছিল। এক প্রবীণ বাসিন্দা কলকাতার উপকণ্ঠে বললেন, “আমরা আর প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি শুনতে চাই না। রাস্তা, বিদ্যুৎ, চাকরি সাধারণ চাহিদাগুলোই মেটেনি। এবার পরিবর্তন চাই।”