কয়লার স্তূপে ধস, চাপা পড়ে মৃত্যু চার শ্রমিকের - 24 Ghanta Bangla News
Home

কয়লার স্তূপে ধস, চাপা পড়ে মৃত্যু চার শ্রমিকের

Spread the love

এই সময়, আসানসোল: ফের কাজের জায়গায় সুরক্ষার অভাবে প্রাণ হারালেন শ্রমিকরা। এ বার ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে রাষ্ট্রায়ত্ত বিসিসিএল–এর মুনিডি কোল ওয়াশারিতে। শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে গুঁড়ো কয়লার স্তূপের ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে চার শ্রমিকের। সবাই একটি বেসরকারি সংস্থার ঠিকাকর্মী।

চার জনের দেহ নিয়ে রাতেই ওই কোল ওয়াশারিতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ ও অন্য শ্রমিকরা। বিক্ষোভে ছিলেন সেখানকার শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব। শেষে মৃত শ্রমিকদের পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ ও প্রত্যেক পরিবারের এক জনকে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয় বিসিসিএল ও বেসরকারি সংস্থাটি। রবিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হয়। শেষকৃত্যের জন্য মৃত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা দেয় বেসরকারি সংস্থাটি।

মৃতদের তিন জন বাংলাভাষী। তাঁদের নাম মানিক বাউড়ি (৪৫), দীনেশ বাউড়ি (৪৫) এবং দীপক বাউড়ি (৪০)। মৃত আর এক শ্রমিকের নাম ভীমলাল গোপ (৫০)। তাঁরা গুঁড়ো কয়লা ট্রাকে তুলছিলেন। সেই সময়ে আচমকা প্রায় ৪০ ফুট উঁচু গুঁড়ো কয়লার স্তূপে ধস নামে। তাতে চাপা পড়েন চার জন। ঘটনার প্রায় দু’ঘণ্টা পরে ধানবাদে বিসিসিএল–এর সদর দপ্তর থেকে উদ্ধারকারী দল যায় মুনিডিতে। তখন ওই শ্রমিকদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক সবাইকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। উদ্ধারে দেরির জন্য এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ ও অন্য শ্রমিকরা। এই ঘটনায় কোল ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান বি সাইরাম বিসিসিএল–এর চেয়ারম্যান মনোজ আগরওয়ালের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দীপকের স্ত্রী সাবিত্রী এবং ভাই অশোক রবিবার সেখানে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাবিত্রী বলেন, ‘অর্থের অভাবে গত বছর চিকিৎসা করাতে না–পারায় ছেলের মৃত্যু হয়েছিল। এ বার স্বামী চলে গেলেন। এক মেয়ে রয়েছে। কী ভাবে দিন চলবে জানি না।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিতেন্দ্র কুমার নামে এক শ্রমিক রবিবার জানিয়েছেন, কারও মাথায় হেলমেট ছিল না।

ঘটনায় মুনিডি কোল ওয়াশারির জেনারেল ম্যানেজার অরিন্দম মোস্তাফি, প্রজেক্ট অফিসার রাজেন্দ্র পাসোয়ান এবং এরিয়া সেফটি অফিসার বিদ্যাসাগর বর্নওয়ালের ভূমিকা নিয়ে এ দিন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতা শঙ্কর বড়াই। তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্রমিকদের মাথায় হেলমেট থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা ও ধানবাদে বিসিসিএল–এর সদর দপ্তরে দ্রুত খবর পাঠিয়ে উদ্ধারের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ছিল ওই তিন জনের। অন্য দিকে, বিসিসিএল–এর চেয়ারম্যান মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাঁর বা যাঁদের গাফিলতি চিহ্নিত হবে, তাঁর বা তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিসিসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দুই দফায় ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বিসিসিএল ও নিয়োগকারী বেসরকারি সংস্থাটি যৌথ ভাবে এই অর্থ দেবে। বেসরকারি সংস্থাটি মৃত শ্রমিকদের সন্তানদের স্থানীয় ডিএভি স্কুলে পড়ানোর ব্যবস্থাও করবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *