প্রথম ঘণ্টার ট্রেন্ডে এগিয়ে অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা
চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে গোটা দেশের নজর এখন ফলাফলের দিকে। সকাল থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলির কার্যালয়ে যেমন তৎপরতা চোখে পড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহলের …
চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে গোটা দেশের নজর এখন ফলাফলের দিকে। সকাল থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলির কার্যালয়ে যেমন তৎপরতা চোখে পড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহলের পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ নজর কেড়েছে উত্তর-পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য অসম, যেখানে মোট ১২৬টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। আজ সেই সব আসনেরই ভাগ্য নির্ধারণের দিন।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকেই ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালটের গণনা, তারপর ধাপে ধাপে ইভিএমের ভোট গণনা চলছে। প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ, তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। তবে এই সবের মধ্যেই প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, যা বিজেপি শিবিরে যথেষ্ট উৎসাহ জোগাচ্ছে।
অসমের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রভাব যথেষ্ট বেড়েছে। সংগঠনকে শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে নির্বাচনী কৌশল সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এবারের নির্বাচনে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে আলাদা করে নজর ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। প্রাথমিক ট্রেন্ডে তাঁর এগিয়ে থাকা অনেকটাই সেই প্রত্যাশাকেই প্রতিফলিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রের ফলাফল নয়, গোটা রাজ্যের ১২৬টি আসনের চিত্রই নির্ধারণ করবে কে গড়বে সরকার। বিভিন্ন এলাকায় শাসকদল ও বিরোধী শক্তির মধ্যে কড়া লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে ভোটপর্বেই। কোথাও উন্নয়ন ইস্যু, কোথাও আবার পরিচয় ও আঞ্চলিক রাজনীতি সব মিলিয়ে অসমের এই নির্বাচন ছিল বহুমাত্রিক।
ভোটগণনা কেন্দ্রগুলির বাইরে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা। কোথাও ঢাকঢোল, কোথাও আবার উদ্বেগে অপেক্ষা এই দুই মেজাজই ধরা পড়ছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পুরো গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রাথমিক ট্রেন্ড অনেক সময়ই একটি ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু তা চূড়ান্ত ফল নয় এ কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই শুরুর দিকে কোনও একটি দলের পক্ষে যেতে পারে, কিন্তু ইভিএমের পূর্ণাঙ্গ গণনা শুরু হলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। তাই এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।