‘ধর ধর, একটা মেয়ে যাচ্ছে’, নাইজেরিয়ার ‘আলুয়ে-দো’ উৎসবে মহিলাদের দেখেই তাড়া, জামাকাপড় ছিঁড়ে…
ভিড় রাস্তার মধ্যে পড়ে রয়েছেন এক তরুণী। চোখে মুখে আতঙ্ক। কোনও রকমে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন তিনি। আর তাঁকে ঘিরে ধরে আছে এক ঝাঁক লোক। হাসতে হাসতে তরুণীর জামাকাপড় ছিঁড়ছে তারা। নাইজেরিয়ার (Nigeria) ডেল্টা স্টেটের ‘আলুয়ে-দো’ উৎসবের (Alue-Do festival) এমন ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। শুধু ওই তরুণী নন, বেশ কয়েক জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন পড়ুয়াও। গোটা ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল ক্ষুব্ধ। এই ঘটনাকে ‘ধর্ষণ উৎসব’ অাখ্যা দিয়েছেন তাঁরা।
‘আলুয়ে-দো’ মূলত উর্বরতার উৎসব। ওজারো প্রদেশে বেশ কয়েকটি জনজাতি সম্প্রদায়ের বাস। তাঁরাই বছরের এই সময়ে সন্তান কামনায় প্রকৃতির উপাসনা করেন। একই সঙ্গে ভালো ফসলের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেি সদলবলে। প্রথমে সবাই নতুন পোশাক পরে এক জায়গায় জড়ো হন। তার পরে প্রার্থনা শেষে ড্রামের তালে নাচগানে মেতে ওঠেন। শেষে সবাই মিলে চলে খাওয়াদাওয়া। অনেক সময়ে বলিও দেওয়া হয়। গত মার্চে এই উৎসবের মাঝপথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। গত কয়েক দিন ধরে সেই দৃশ্য ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
দ্য সানডে গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রার্থনা শেষ হতেই মহিলাদের দিকে তেড়ে যান একদল যুবক। অনেকেই বিষয়টা বুঝতে পারেননি। ধীরে ধীরে দল ভারী হতে থাকে। প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁরা মহিলাদের গণধর্ষণ, যৌন হেনস্থা করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। আশপাশের লোকজন চিৎকার করে তাঁদের থামতে বলেন ঠিকই। তবে মহিলাদের বাঁচাতে কেউই এগিয়ে যাননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সঙ্গে কয়েক জন কিশোরও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ।
ওই রাস্তা দিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া। আচমকাই ভিড়ের নজর পড়ে তাঁর উপরে। সঙ্গে সঙ্গে কয়েক জন চিৎকার করে ওঠেন, ‘ধর ধর, একটা মেয়ে যাচ্ছে।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মৌমাছির ঝাঁকের মতো আমার উপরে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল। কেউ হাত ধরে টানছে, কেউ পা ধরে। কেউ জামা ছিঁড়ে দিচ্ছে। বীভৎস অবস্থা। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ওরা হাত দিচ্ছিল। আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম।’
শেষে কয়েক জন পথচারী এগিয়ে গিয়ে তরুণীটিকে উদ্ধার করেন। তবে তাঁর ফোন আর ব্যাগটি খোয়া গিয়েছে। তরুণী এখনও মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ওই সাক্ষাৎকারে। এই ঘটনায় গোটা সমাজের দিকেই আঙুল তুলেছেন নারী অধিকার রক্ষা কর্মী রীতা আইকি। তিনি বলেন, ‘এমন একটা বিষয় যদি সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে, তা হলে সেটা আর ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না। গোটা সমাজেই সেটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে বলেই ধরে নিতে হয়।’ ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডেল্টা পুলিশ। এই বিষয়ে ডেল্টা স্টেট পুলিশের মুখপাত্র ব্রাইট এডাফে বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সকলের বিচার হবে।’