কেউ পরাজিত, কারও মুখে জয়ের হাসি! ‘উন্নয়ন’-এর পরীক্ষায় তারকা-প্রার্থীদের রেজ়াল্ট কেমন?

নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের অংশগ্রহণ শুধু রাজনৈতিক লড়াইকেই নয়, জনমানসের আগ্রহকেও এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির থেকে এই বিধানসভা নির্বাচনেও লড়াই করেছেন তারকা প্রার্থীরা। নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশিত। কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে? শিঁকে ছিড়ল কার ভাগ্যে? দেখে নিন একনজরে।

শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। অভিনেতা হিসাবে জনপ্রিয় ছিলেন। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ময়দানেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। রুদ্রনীলের রাজনৈতিক কেরিয়ার বেশ চর্চিত। প্রথতে তিনি ছিলের বামেদের গড়ে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে গড় বদল করে জোড়াফুল শিবিরে যোগ দেন। তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করলে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শিবপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে বার পরাজিত হন। তবে ৫ বছর পরে ফের নির্বাচনের লড়াইয়ে রুদ্রনীল। শোনা যাচ্ছে, এ বার তাঁর ভাগ্যে শিঁকে ছিড়তে পারে।

যাদবপুর কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ হলেও, গত কয়েক বছরে সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। প্রথমবার ভোটের ময়দানে লড়াই করলেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর শর্বরীকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বেও দেখা গিয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থেকেছেন। ময়দানে নেমে রাজনীতি করেছেন।

টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। উল্টো দিকে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস। ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে পাপিয়া। টালিগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ভাবে আলোচিত। পাশাপাশি বিনোদন জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার কারণেও এখানে তারকা প্রার্থীদের গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে পাপিয়ার মতো পরিচিত মুখকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নামা বিজেপির কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে তিনি রাজ্যসভায় সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের একটি বড় মাইলফলক। সংসদে এবং সংসদের বাইরে—দু’জায়গাতেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। সোনারপুর দক্ষিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জেতা তাঁর কাছে একটি বড় পরীক্ষা। এই কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করতে পারলে তা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

ব্যারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। গত পাঁচবছরে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়কের পদ সামলাছেন। এ বারও নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন। তবে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেড় বছর মতো বিধায়িকার পদ সামলেছেন। এ বারও প্রচার করেছিলেন জোরকদমে। তবে বিজেপির সজল ঘোষের কাছে পরাজিত হলেন সায়ন্তিকা।

খড়্গপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গত ৫ বছরের বিজেপির বিধায়ক ছিলেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এ বছর আর খড়্গপুর থেকে টিকিট পাননি হিরণ। শ্যামপুর থেকে লড়াই করেছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী শ্যামপুর থেকেও জয়ী হয়েছেন হিরণ।

অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী গত ৫ বছর চন্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। তবে এ বার তাঁর কেন্দ্র বদলে করিমপুর থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সাধ্যমত। একেবারে নতুন কেন্দ্রে প্রচারও করেছেন যথেষ্ট। তবে বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে অনেক ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।

সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূলের প্রার্থী লাভলি মৈত্র। বিগত ৫ বছরে এই কেন্দ্রেরই বিধায়কের পদ সামলেছেন। তবে এ বার বোধহয় জয় থেকে দূরে অনেকটাই। বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছেন অনেকটাই।

রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রতীকে লড়াই করেছিলেন অদিতি মুন্সী। এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তিনি। সদ্য মা হয়েছেন। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে অনেক মার্জিনে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।