লস্কর জঙ্গিকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিল NIA র বিশেষ আদালত
নয়াদিল্লি: দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াল বেঙ্গালুরুর বহুচর্চিত জেল র্যাডিকালাইজেশন মামলা। ( LeT operative)এই মামলায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে কড়া সাজা দিল এনআইএ-র …
নয়াদিল্লি: দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াল বেঙ্গালুরুর বহুচর্চিত জেল র্যাডিকালাইজেশন মামলা। ( LeT operative)এই মামলায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে কড়া সাজা দিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তির নাম বিক্রম কুমার ওরফে ছোট উসমান, যাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র তরফে জানানো হয়েছে, বিক্রম কুমার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) এবং বিস্ফোরক পদার্থ আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই মামলায় তিনিই অষ্টম ব্যক্তি যিনি আদালতের রায়ে দণ্ডিত হলেন।
আরও দেখুনঃ ব্যারাকপুর-দমদমের পর্যবেক্ষক রাজীব কুমারকে নিয়ে ক্ষোভ অর্জুনের
এর আগেই গত মাসে একই মামলায় সাতজন অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মূল চক্রী তথা LeT-র সদস্য টি নাসির। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০৮ সালের বেঙ্গালুরু সিরিয়াল ব্লাস্ট মামলায় বিচারাধীন বন্দি থাকাকালীনই পারাপ্পানা আগ্রাহারা সেন্ট্রাল জেলে বসেই তিনি জঙ্গি চক্রের বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
এনআইএ-র তদন্তে আরও জানা যায়, জেলে থাকাকালীনই টি নাসির এবং সহ-অভিযুক্ত জুনাইদ আহমেদের মাধ্যমে বিক্রম কুমারকে চরমপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পরেও সে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং সংগঠনের হয়ে কাজ চালিয়ে যেত।
২০২৩ সালের মে মাসে বিক্রম কুমার হরিয়ানার আম্বালা থেকে একটি ‘ডেড ড্রপ’-এর মাধ্যমে হ্যান্ড গ্রেনেড ও ওয়াকি-টকি সংগ্রহ করে তা বেঙ্গালুরুতে এক সহ-অভিযুক্তের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনাই তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে, যা প্রমাণ করে যে সে সক্রিয়ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।
শুধু তাই নয়, এনআইএ-র দাবি অনুযায়ী, টি নাসিরকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার পরিকল্পনাতেও বিক্রম জড়িত ছিল। এই পুরো পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, যখন বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (CCB) কয়েকজন অপরাধীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, তারা বেঙ্গালুরু শহরে একাধিক জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল।
পরবর্তীতে এই মামলার দায়িত্ব নেয় এনআইএ এবং তারা আরও বিস্তৃত ষড়যন্ত্রের সন্ধান পায়। তদন্তে উঠে আসে, জেলের ভিতরে বসেই একটি বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছিল, যেখানে বন্দিদের মধ্যে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই মামলায় মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে এনআইএ। তবে এখনও জুনাইদ আহমেদ পলাতক এবং তাকে ধরার জন্য জোরদার তল্লাশি চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করলে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে, জেল ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।