রবিতে স্ট্রং–রুমের বাইরে নজরদারিতে মহিলা কর্মীরা
এই সময়: ভোট গণনার দিন দলের সর্বস্তরের নেতা–কর্মীদের মাঠে নামাতে চাইছে বিজেপি। তারই প্রস্তুতি হিসেবে আজ, রবিবার গণনার ঠিক আগের দিন রাজ্যের সব স্ট্রং–রুমের বাইরে দলের মহিলা কর্মীদের জমায়েত করার নির্দেশ দিয়েছেন পদ্মের রাজ্য নেতৃত্ব। গত দু’দিন ধরে দলের সব কাউন্টিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদবের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতারা। বার্তা স্পষ্ট, কোনও অবস্থাতেই কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদ্ম–প্রার্থীদের কোনও এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। এ ছাড়া দলীয় প্রার্থীদের বলা হয়েছে, আজ, রবিবার নিজ নিজ বিধানসভা এলাকার কোনও মন্দিরে গিয়ে পুজো দিতে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তাঁদের বিধানসভা এলাকার বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। শুক্র ও শনিবার রাজ্যের দশটি সাংগঠনিক জ়োনের জন্য দশটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির তরফে। প্রথমদিন উত্তরবঙ্গের জ়োনগুলিতে এই কর্মশালা হয়। এ দিন ওয়ার্কশপ করা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ এবং রাঢ়বঙ্গের জেলাগুলিতে।
বিজেপির অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটে গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ‘খেলা’ হয়েছে। যে ‘খেলা’র রিমোট কন্ট্রোল ছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। এ বার গণনাকেন্দ্রে যাতে জোড়াফুল শিবিরের এজেন্টরা ‘খেলতে’ না–পারেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে বিজেপি। সে কথা মাথায় রেখে ভোট মিটে যেতেই বিজেপি নজর দিয়েছে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপরে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘২০২১–এ আমাদের অভিজ্ঞতা কম ছিল। আর সেই সুযোগ নিয়েছিল তৃণমূল। কিছু ভোটে পিছিয়ে পড়তেই কাউন্টিংয়ের মাঝপথে গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বহু বিজেপি প্রার্থী। এ বার সেটা করা যাবে না। তৃণমূল যাতে গণনাকেন্দ্রে কোনও অসাধু উপায় অবলম্বল করতে না পারে, তার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নিচ্ছি।’ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘আগামিকাল সোমবার আমাদের সেই শেষ লড়াই, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের গণতন্ত্রের রায়কে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাই সমস্ত কার্যকর্তার কাছে আন্তরিক অনুরোধ, প্রত্যেকে যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনা কেন্দ্রে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রক্রিয়াটির উপরে নজর রাখেন এবং আমাদের প্রার্থীদের জয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে তবেই যেন গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করেন।’
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিজেপি প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকটি হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে। সেখানে হাজির ছিলেন খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষও। তাঁর কথায়, ‘কাউন্টিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটা গত বার আমাদের হয়নি। তার খেসারত আমাদের চোকাতে হয়েছিল। এ বার আমরা কোনও ফাঁক রাখছি না। দলীয় প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয়ে এবং তৃণমূলের সম্ভাব্য অভিসন্ধিগুলি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এ বার আমাদের কোথাও কোনও ভুলচুক হবে না।’ দিলীপের আশঙ্কা, ‘প্রথম দফার ভোটের পরেই তৃণমূল বুঝে গিয়েছে, ওরা হেরে গিয়েছে। তাই কাউন্টিংয়ের দিন তৃণমূল গন্ডগোল করার চেষ্টা করবে।’
শুক্রবার বিজেপির উত্তরবঙ্গের কাউন্টিং এজেন্টদের ‘ক্লাস’ নেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব। এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘ভোট হয়ে যাওয়ার পরে কাউন্টিংয়ের জন্য এজেন্টদের প্রস্তুত হতে হয়। সেটাই আমরা রাজ্যের সর্বত্র করছি। কাউন্টিং সেন্টারের ভিতর বিজেপির এজেন্টদের ভূমিকা কী হবে, তৃণমূল কোনও কারচুপি করার চেষ্টা করলে তার মোকাবিলা কী ভাবে করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণই দলের এজেন্টদের দেওয়া হচ্ছে।’
বিজেপি চাইছে, গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলের সর্বস্তরের নেতা–কর্মীর মনোবল অটুট রাখা। বিশেষত, কাউন্টিং এজেন্টদের। সে কারণেই দলের রাজ্য নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফোন করে এজেন্টদের ‘ভোকাল টনিক’ দেওয়ার জন্য। বিজেপির এক রাজ্য পদাধিকারীর কথায়, ‘মানুষ বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছে। কিন্তু সব হিসেবে উল্টে যাবে কাউন্টিং সেন্টারে গা–ছাড়া মনোভাব দেখালে। তাই শেষ রক্ষা করতে হলে গণনাকেন্দ্রের ভিতর এবং বাইরে তৃণমূলকে চাপে রাখতে হবে। ঢিলে দিলেই ওরা কারচুপি করার চেষ্টা করবে।’