নেই ফুটেজ, কোথাও বিহারের ভোটের ভিডিয়োও! ফলতার ২৮৫ বুথেই রিপোলের নির্দেশ কমিশনের
কেন এই বেনজির নির্দেশ?
কমিশনের বক্তব্য, গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বেশকিছু বুথে ইভিএমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বোতামের উপরে ব্ল্যাকটেপ বা আতর লাগানোর অভিযোগ আসে। তা ছাড়া ওই কেন্দ্রের ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথের মধ্যে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের বেআইনি উপস্থিতির অভিযোগও উঠেছে। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিজে সেখানকার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র নিজে ঘুরে দেখেন। দেখেন ভিডিয়ো ফুটেজও। স্পেশাল অবজ়ার্ভারের স্ক্রুটিনি রিপোর্ট দেখে কমিশন এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা জেনারেল অবজ়ার্ভার শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারদের নোটের উপরে ভরসা করেছিলেন। কিন্তু ভোটের আসা দেদার অভিযোগ ও বুথের সিসিটিভি ফুটেজ তাঁরা পরীক্ষা করেননি। কমিশনের নজরে এসেছে, রিটার্নিং অফিসার যে ভিডিয়ো ফুটেজ চিপে ভরে জমা দেন, তার অনেকগুলি ছিল ফাঁকা। কোথাও আবার বিহারের কোনও বুথের ভোটের রেকর্ডিং মিলেছে। কমিশনের সন্দেহ, পরিকল্পনামাফিক এই সব বুথের ভিডিয়ো ক্যামেরা হয় অফ করা হয়েছে অথবা সেই রেকর্ডিং সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্তত ৩৪টি বুথের ভিডিয়ো ফুটেজ হয় মেলেনি বা বিকৃত করা হয়েছে, কোনও বুথে নির্দিষ্ট সময়ের ফুটেজ মেলেনি, কোথাও একাধিক ভোটারকে একসঙ্গে ইভিএম কাউন্টারে ঢুকতে দেখা গিয়েছে, কোথাও বুথের মধ্যে প্রচুর অবাঞ্ছিত লোকের ভিড় দেখা গিয়েছে। এতকিছুর পরেও সংশ্লিষ্ট জেনারেল অবজ়ার্ভার ও রিটার্নিং অফিসার অভিযোগকারী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে না–ডেকেই স্ক্রুটিনি করেছিলেন। কমিশনের দাবি, এই কেন্দ্রের মোট বুথের অন্তত ২১ শতাংশ ও মোট ভোটারের অন্তত ২২.৮২ শতাংশ যেখানে প্রভাবিত হয়েছেন, সেখানে গোটা কেন্দ্রেই নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। যেখানে ইভিএমে টেপ লাগানোর ঘটনা ভোট চলাকালীন ধরাও পড়ে, সেখানে তার আগেই সর্বোচ্চ ৫৮ শতাংশ ভোট হয়ে গিয়েছিল। কমিশনের এই রিপোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের প্রতিক্রিয়া, ‘ঘটনা খতিয়ে দেখে পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিক। আইন আইনের পথেই চলবে।’