এলপিজি–সঙ্কটের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টা সিএনজির আশ্বাস শহরে
প্রশান্ত ঘোষ
এক দিকে উপসাগরীয় যুদ্ধে সরবরাহের সমস্যা এবং অন্য দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এলপিজি গ্যাসের ক্রমান্বয়ে দাম বাড়ানোর জেরে জ্বালানি গ্যাস নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে। নতুন করে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ও অটো–এলপিজির দাম বাড়ায় সঙ্কটে পড়েছে গণপরিবহন। পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন দিয়েও অটো–এলপিজি মিলছে না। বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে নাবন্নের আধিকারিকদের বৈঠকের পরেও সুরাহা হয়নি। এলপিজি নিয়ে নিয়ে আশঙ্কার মধ্যেই কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর শোনা যাচ্ছে সিএনজি নিয়ে। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোগান বাড়ছে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাস)–র। কয়েক মাস আগেও প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার কেজি সিএনজি সরবরাহ হতো শহরে। এখন দৈনিক বৃহত্তর কলকাতায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার কেজি গ্যাস সরবরাহ করছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিসিএল)। সংস্থার আধিকারিকদের আশ্বাস, সিএনজির কোনও সঙ্কট নেই। সিএনজিতে চলা অটো, ওলা, উবর, যাত্রীসাথীর ট্যাক্সি, সরকারি বাসের জ্বালানি নিয়েও সমস্যা হবে না।
সম্প্রতি সিএনজির জোগান বাড়া দেখেই রাজ্য পরিবহণ দপ্তর ২৫টি রুটে পর্যায়ক্রমে ২৫০টি সিএনজি বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজারহাট–নিউ টাউনের দু’টি পাম্প ছাড়াও কসবা, গড়িয়া, সিঁথির মোড় এবং কল্যাণীর একটি পাম্পে ২৪ ঘণ্টা সিএনজি মিলছে এখন। রাজ্যে সিএনজি সরবরাহকারী বিজিসিএল–এর সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘নিউ টাউন–সহ বৃহত্তর কলকাতার পাঁচটি পাম্পে আমরা ২৪ ঘণ্টাই গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি। পাইপলাইনের কাজ সম্পূর্ণ হলে সবক’টি পাম্পেই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করতে পারব।’ এই সংস্থা যে ক’টি আবাসন ও বাড়িতে পাইপলাইনে রান্নার গ্যাস (পিএনজি) সরবরাহ করে সেখানে দাম বাড়ারও কোনও সম্ভাবনা নেই আপাতত।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন পরিবেশ–বান্ধব গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে রাজ্যে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত ছোট গাড়ি ও সিএনজি গাড়ির সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে কলকাতায়। রাজারহাট–নিউ টাউনে ৬টি পেট্রল পাম্পের মধ্যে আগে তিনটিতে সিএনজির সুবিধা থাকলেও মাত্র একটিতে চব্বিশ ঘণ্টা গ্যাস মিলত। সম্প্রতি সিটি সেন্টার–২–এর কাছে বিজিসিএল–এর ‘রূপসী বাংলা’ নামে একটি নিজস্ব পাম্প চালু হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টাই গ্যাস মিলছে বলে দাবি সংস্থার কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান পার্থপ্রতিম ঘোষের।

মোরসেলিম মোল্লা নামে এক ক্যাব চালক বলেন, আগে নিউ টাউনে একটি পাম্পে সিএনজি গ্যাস ভরতে গেলে দু’ থেকে তিন ঘণ্টা লাইন দিতে হতো। এখন চারটি পাম্পের মধ্যে দু’টিতে চব্বিশ ঘণ্টা গ্যাস মিলছে, ফলে অনেক সুবিধা হয়েছে। বানতলা, কসবা, রুবি, বরাহনগর, কল্যাণীতেও ২৪ ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।’ বিজিসিএল সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগেও গ্যাসের প্রতি কেজিতে ৯৪ টাকা নেওয়া হতো। এখন কেজিতে পঞ্চাশ পয়সা কমেছে। পেট্রলের থেকে দাম কম অথচ মাইলেজ দ্বিগুন। তাই সিএনজি গাড়ির প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন একটি নামী গাড়ি সংস্থার সেলস হেড বিশ্বজিৎ মাইতি।
নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ১, ২, ৩ এবং চিনারপার্ক ছাড়াও কলকাতার গড়িয়া, নিউ আলিপুর, কসবা, বেলগাছিয়া, ঠাকুরপুকুর, টালিগঞ্জ, নাকতলায় গ্যাস সরবরাহ করে বেঙ্গল বিজিসিএল। নদিয়ার কল্যাণী, হুগলির বাঁশবেড়িয়া, বৈদ্যবাটিতেও গ্যাস সরবরাহ করে বিজিসিএল। চলতি মাসে শহরে আরও ৮টি পাম্প চালু করবেন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বেলঘরিয়া রথতলা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, উল্টোডাঙা বাস ডিপো, বাসুদেবপুর রয়েছে।