সরকারি কর্মীদের কোটি টাকা মেরে ৭ হিজাবিকে দিয়ে পুলিশের জালে ইলহাম
পিলিভিত: উত্তরপ্রদেশের পিলিভিত জেলায় এক পিয়নের কোটি টাকার বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। (Pilibhit peon)জেলা স্কুল ইন্সপেক্টরের (ডিআইওএস) অফিসে কর্মরত পিয়ন ইলহাম উর রহমান শামসি সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন অ্যাকাউন্ট থেকে …
পিলিভিত: উত্তরপ্রদেশের পিলিভিত জেলায় এক পিয়নের কোটি টাকার বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। (Pilibhit peon)জেলা স্কুল ইন্সপেক্টরের (ডিআইওএস) অফিসে কর্মরত পিয়ন ইলহাম উর রহমান শামসি সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা সাইফন করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নকল বেনিফিশিয়ারি আইডি তৈরি করে এই টাকা তুলে তিনি সাতজন মহিলার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর দুই স্ত্রী লুবনা ও আজরার অ্যাকাউন্টে গেছে যথাক্রমে ২.৩৭ কোটি এবং ২.১২ কোটি টাকা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ব্যাংক অফ বরোদার একটি শাখার ম্যানেজার বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেন দেখে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান। তদন্তে উঠে আসে শামসি ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৯৮টি নকল লেনদেন করে টাকা সরিয়েছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত এই কাজ চলেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শামসি শুধু পিয়ন ছিলেন না, অফিসের সংবেদনশীল আর্থিক কাজকর্মেও তাঁর অ্যাক্সেস ছিল।
আরও দেখুনঃ ঘুম উড়বে চিন-পাকিস্তানের! ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বিরাট পরিবর্তন আনবে অগ্নি-৬
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নকল শিক্ষক-কর্মচারী তৈরি করে বেতন ছাড়িয়েছেন।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শামসির তিন স্ত্রী। তাঁদের একজনকে নকল শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ করিয়ে বেতন তুলেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, লুবনা ও আজরা ছাড়াও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার একাংশ ফিক্সড ডিপোজিট এবং সম্পত্তি কেনায় ব্যয় হয়েছে। পিলিভিত পুলিশ এরই মধ্যে শামসির সাতজন মহিলা আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে।
তাঁদের মধ্যে দুই স্ত্রীও রয়েছেন। অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে তদন্ত চলছে।শামসির জীবনযাত্রা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। একজন সাধারণ পিয়ন হয়েও কোটিপতি হয়ে ওঠা এবং একাধিক স্ত্রী রাখার ঘটনা স্থানীয় সমাজে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আগে বিসালপুরের একটি টেকনিক্যাল কলেজে পিয়ন ছিলেন। পরে প্রভাব খাটিয়ে ডিআইওএস অফিসে বদলি নেন। সেখানে বসে তিনি ট্রেজারি অ্যাকাউন্ট এবং বেতন বিলের কাজ দেখতেন।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কেলেঙ্কারি চালিয়ে যান।পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট শুকিয়ার্তি মাধব জানিয়েছেন, তদন্ত আরও গভীরে যাবে। ট্রেজারি অফিসার এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল পে-রোল সিস্টেমে যে দুর্বলতা রয়েছে, সেটাও এই ঘটনায় সামনে এসেছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতনের টাকা এভাবে লুট হয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্ষুব্ধ। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় অঙ্কের টাকা কীভাবে কয়েক বছর ধরে চোখ এড়িয়ে গেল?