নেপাল সীমান্তে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রাম স্বর্গের চেয়ে কম সুন্দর নয়, গিয়েছেন কোনও দিন?
পশ্চিম সিকিম-এর একেবারে প্রান্তে, ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে লুকিয়ে রয়েছে শান্ত, নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম উত্তারে। এই গ্রামে এখনও পর্যটকদের ভিড় তেমন নেই, তবে ধীরে ধীরে এটি ট্রেকারদের কাছে একটি জনপ্রিয় হাব হয়ে উঠছে। পাহাড়ের নীরবতা আর স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা, সব মিলিয়ে উত্তারে সত্যিই অপূর্ব।
উত্তারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখান থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ট্রেকিং রুট। এখান থেকে ট্রেক করে পৌঁছনো যায় বিখ্যাত সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্ক-এ, যেখানে বিরল প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণী দেখা যায়। অভিজ্ঞ ট্রেকাররা এখান থেকে গোয়েচালা-র দিকে যাত্রা করেন, যেখানে কাছ থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য। আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে চাইলে গ্রিন লেক ট্রেকও করা যায়। একদিনের ছোট ট্রেক থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহের দীর্ঘ অভিযানের সুযোগ রয়েছে এখানে।
শুধু ট্রেকিং নয়, উত্তারে নিজেও এক শান্তির ঠিকানা। চারপাশে সবুজ বন, ছোট ছোট গ্রাম, আর নির্মল পরিবেশ আপনাকে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে। এখানে বার্ড ওয়াচিং, নেচার ফটোগ্রাফি বা শুধু বসে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করাই বড় আনন্দ। ভোরের দিকে পরিষ্কার আকাশে দূরের তুষারঢাকা শৃঙ্গের দৃশ্য সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়।
উত্তারে পৌঁছনো একটু কষ্টকর হলেও সেটাই এর সৌন্দর্যের অংশ। কাছাকাছি বড় শহর গেয়জিং থেকে গাড়ি ভাড়া করে এখানে আসতে হয়। রাস্তা কিছুটা ভাঙাচোরা হলেও পথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। নিকটতম রেলস্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি এবং নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা বিমানবন্দর। সেখান থেকে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টার পথ গাড়িতে।
উত্তারের আসল আকর্ষণ এর সরলতা ও প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য। এখানকার হোমস্টেগুলিতে থাকলে স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও মানুষের আন্তরিকতা খুব কাছ থেকে অনুভব করা যায়। ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে উত্তারে আপনার জন্য একদম আদর্শ গন্তব্য।