অপেরেশন গ্লোবাল হান্ট! সৌদি থেকে গ্রেফতার ব্যাঙ্ক জালিয়াত কমলেশ পারেখ
উত্তরপ্রদেশ বা অন্য কোনও ছোটখাটো প্রতারণা নয়। (Kamlesh Parekh)এবার সামনে এল দেশের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় গুরুত্বপূর্ণ গ্রেফতারি। প্রায় এক দশক ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে সিবিআইয়ের …
উত্তরপ্রদেশ বা অন্য কোনও ছোটখাটো প্রতারণা নয়। (Kamlesh Parekh)এবার সামনে এল দেশের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় গুরুত্বপূর্ণ গ্রেফতারি। প্রায় এক দশক ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস (আই) লিমিটেডের প্রোমোটার কমলেশ পারেখ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণ করে ভারতে আনা হয়েছে, যা এই মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে কলকাতার ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফ্রড ব্রাঞ্চ (বিএসএফবি) এই মামলা রুজু করে। অভিযোগ ছিল, শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস (আই) লিমিটেড এবং তার কর্ণধাররা মিলিতভাবে ২৫টি ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়ামকে প্রায় ২৬৭২ কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন। ঋণ নিয়ে তা শোধ না করা, ভুয়ো নথি তৈরি এবং আর্থিক লেনদেনে অসংগতি এই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।
আরও দেখুনঃসরকারি কর্মীদের কোটি টাকা মেরে ৭ হিজাবিকে দিয়ে পুলিশের জালে ইলহাম
তদন্ত চলাকালীনই কমলেশ পারেখ দেশ ছাড়েন এবং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে খোলা প্রান্তের নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট (NBW) জারি করা হয়। এরপরও তাঁকে ধরতে না পারায় ২০২৪ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড কর্নার নোটিস (RCN) জারি করা হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে এই নোটিস জারি হওয়ার পরই তাঁর গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। অবশেষে ইউএই-তে তাঁকে শনাক্ত করে স্থানীয় প্রশাসন। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ রেড কর্নার নোটিসের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে ভারতে প্রত্যর্পণ করে। শুক্রবার, ১ মে ২০২৬-এ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে সিবিআই।
সিবিআই ইতিমধ্যেই ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর কমলেশ পারেখ-সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল। কিন্তু প্রধান অভিযুক্তের অনুপস্থিতির কারণে মামলার অগ্রগতি অনেকটাই থমকে ছিল। এবার তাঁর গ্রেফতারির ফলে তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ, ২ মে ২০২৬-এ তাঁকে নয়াদিল্লির উপযুক্ত আদালতে পেশ করা হবে ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য। এরপর তাঁকে কলকাতায় আনা হবে, যেখানে এই মামলার মূল বিচারপ্রক্রিয়া চলবে। সিবিআই আধিকারিকদের মতে, পারেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই জালিয়াতি চক্রের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।