Aamir Khan: বিমানে উঠলেই মৃত্যুভয়ে কাঁপতে থাকেন আমির! প্রতিবার কাকে চিঠি লিখে যান অভিনেতা? – Bengali News | Aamir Khan fears plane crash
আকাশপথে যাত্রার সময় বিমান দুর্ঘটনার ভয় অনেককেই তাড়া করে। কিন্তু আমির খানের ক্ষেত্রে এই আতঙ্ক এক অন্য মাত্রা পায়। ছবির কাজ চলাকালীন যদি তাঁর মৃত্যু হয়, তবে সেই অসম্পূর্ণ কাজ কে শেষ করবেন? এই দুশ্চিন্তায় বিমানে ওঠার আগে একটি নির্দিষ্ট কাজ না করে শান্ত হতে পারেন না আমির।
‘কয়ামত সে কয়ামত তক’ বা ‘জো জিতা ওয়াহি সিকন্দর’-এর মতো ছবির পরিচালক মনসূর খান দীর্ঘ ২০ বছর চলচ্চিত্র পরিচালনার অন্তরালে থাকলেও, আমিরের জীবনে তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম。 এক সাক্ষাৎকারে আমির জানিয়েছেন, যখন কোনও ছবির শুটিং শেষে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ বাকি থাকে, তখন তিনি এক অদ্ভুত মানসিক চাপে ভোগেন। তাঁর মনে হয়, যদি বিমান ভেঙে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়, তবে ছবির কাজ তো মাঝপথেই থমকে যাবে।
এই পরিস্থিতি সামলাতে আমির প্রতিবার বিমানে ওঠার আগে মনসূরকে একটি চিঠি লিখে রাখেন。 সেই চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া থাকে যে, আমিরের অনুপস্থিতিতে মনসূর যেন ছবিটির বাকি কাজ গুছিয়ে শেষ করেন। আমির চান না তাঁর মৃত্যুতে কোনও প্রযোজক বা গোটা টিমের পরিশ্রম বিফলে যাক।
আমিরের এই ভরসা কেবল কাজের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী কিরণ রাওকেও স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছেন যে, কোনও বড় বিপদে বা আমিরের অবর্তমানে যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন অবশ্যই মনসূরের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়।
মনসূর ও আমির জুটি মানেই বলিউডের একাধিক কালজয়ী সিনেমা。 মনসূর খান বর্তমানে প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকলেও, আমিরের প্রতিটি পদক্ষেপে আজও তিনি অলক্ষ্যে থেকে এক বড় খুঁটির মতো কাজ করেন। আমিরের এই বয়ান প্রমাণ করে দেয় যে, ইন্ডাস্ট্রির ‘পারফেকশনিস্ট’ তকমার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষটি কাজের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল এবং পরিবারের ওপর কতটা নির্ভরশীল।